উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীর ঋণ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে ব্যাংকের এমডিদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। ঋণখেলাপিদের উপজেলা নির্বাচনের বাইরে রাখার জন্য ওই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 
এ লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ঋণ-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বা প্রধান নির্বাহীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামরুন নাহার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশ দেয়া হয়।
পরিপত্রে বলা হয়, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক অথবা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রার্থীর পূর্ণাঙ্গ বিবরণীসহ তালিকা সংগ্রহ করবেন। তিনি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে খেলাপি ঋণগ্রহীতার (প্রার্থীর) তথ্য তুলে ধরবেন।
পাশাপাশি ওই তালিকা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রার্থীর খেলাপি-সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠাবেন। প্রধান নির্বাহী শাখা ব্যবস্থাপকের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার ব্যবস্থা করবেন।
কোনো প্রার্থী নির্বাচনী এলাকার বাইরে অন্য কোথাও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করলে প্রার্থীর তালিকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এমডির কাছে পাঠাবেন নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিসার। তালিকা প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডি সর্বশেষ হালনাগাদকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতার তালিকার সঙ্গে প্রার্থীর তালিকা মিলিয়ে যাচাই-বাছাই করার ব্যবস্থা করবেন।
যাচাইয়ের পর ফ্যাক্সযোগে তালিকার একটি করে কপি রিটার্নিং কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠাবেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো খেলাপি ঋণগ্রহীতার একটি তালিকা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে এবং নির্বাচন কমিশনে ফ্যাক্সযোগে পাঠাবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি তালিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যাংকের এমডিরা এ তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।
খেলাপি-সংক্রান্ত তথ্যের নির্ভুলতার সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের ওপর বর্তাবে। ভুল তথ্য উপস্থাপন অথবা খেলাপি ঋণের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের ব্যর্থতার জন্য ব্যবস্থাপক অথবা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাচন আইন ১৯৯৮ অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী কোনো প্রার্থী যদি মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত কোনো ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী রাখেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য হবেন না। তবে নিজস্ব বসবাসের নিমিত্তে গৃহঋণ ও ক্ষুদ্র কৃষিঋণ এ নিয়মের আওতাভুক্ত হবে না।
[b]ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএমআর/এফএ[/b]