রান্নায় মসলার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে তেজপাতা একটি অনন্য উপাদান। শুধু তরকারী কেন গ্রাম বাঙ্গলার মাংস- পোলাও রান্না করলে তেজপাতার ব্যবহার না করার চিন্তাই দুষ্কর। রান্নার প্রকৃত স্বাদে ডুব দিতে ও খাবারের সুগন্ধে আপনার প্রিয়জনকে মুগ্ধ করতে তেজপাতার ব্যাবহার অবশ্যই চাই।

এছাড়াও গ্রামে কি গঞ্জে খুশখুশি কাশিতে তেজপাতার বড়ি বানিয়ে খেলে অনেকটা আরোগ্য লাভ হয়, এমন ঋতি-রেওয়াজ গ্রামে প্রচলিত। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই তেজপাতার চাষ। বাণিজ্যিক ভাবে প্রসারিত হচ্ছে মসলা জাতীয় এই পণ্যটির।

বাজারে অনেকটা ভালো দাম ও ব্যাপক চাহিদা থাকায় আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের মাঝে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী করা হচ্ছে কাউনিয়ায় উৎপাদিত তেজপাতা। সম্প্রতি উপজেলার টেপামধুপুর, বালাপাড়া, কুর্শা ও অন্নদানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেসব উচুঁ জমি পতিত রাখা হয়েছিল, এখন তা আর পতিত জমি নয়।

এখন সেসব জমিতে কৃষকরা কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যক্তিগত উদ্যোগে তেজপাতার চাষ করছেন। কৃষি ভর্তুকি মিটিয়ে লাভ ও দেখছেন তারা, গুনছেন আয়ের অতিরিক্ত মুনাফাও। বসত বাড়ি বা জমির চর্তুদিকে উচু করে সারি সারি গাছ লাগিয়েছে অনেকে।

কাউনিয়া কৃষি অফিস জানায়, তেজপাতার চারা রোপনের দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমান পাতা সংগ্রহ করা যায়। আর এসব গাছ থেকে প্রতি বছর দুই থেকে তিনবার পাতা সংগ্রহ করে বিক্রি করা যায়।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতবছর উপজেলায় মোট ৭০ হেক্টর জমিতে তেজপাতার চাষ হয়েছিল। যা এবছর বৃদ্ধি পেয়েছে তার দ্বি গুন। ৬৫টি ছোট বড় বাগানসহ প্রায় ১৪০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে তেজপাতা।

অন্নদানগর ইউনিয়নের তেজপাতা চাষি আবুল হোসেন জানান, তিনি গত দুই বছর আগে তার জমিতে দেড়’শ চারা লাগান। মাস ছয়েক আগে ৫২ হাজার টাকার তেজপাতা বিক্রি করেছেন। এবছর আরো প্রায় ৭০হাজার টাকার পাতা বিক্রি করা যাবে।

একই ইউনিয়নের চৌতার মোড় এলাকার তেজপাতা চাষি হযরত আলী জানান, তেজপাতার গাছ থেকে তিনি প্রতি বছর প্রায় সোয়া লাখ টাকার পাতা বিক্রি করেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাসুদেব রায় জানান, অল্প খরচে ও অল্প পরিশ্রমে তেজপাতা চাষ অত্যান্ত লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে প্রেরণা জুগিয়েছে। চাষিরা যাতে আরো বেশি জমিতে তেজপাতা চাষ করেন সেজন্য প্রতিনিয়ত কৃষকদেরকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

কাউনিয়া উপজেলার তেজপাতা স্থানীয় এবং দেশের চাহিদা পুরনের পাশাপাশি উপজেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর ভুমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এমএ