পিরোজপুর জেলায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। গত ৪-৫ বছর ধরেই এ হাসি ধরে রাখতে পেরেছেন। এ হাসির রহস্য জেলায় আমন চালের উৎপাদন। যা লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে ২ থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন বেশী হলেও এবার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ ১৪ হাজার মেট্রিক টন বেশী উৎপাদিত হয়েছে।

এক দিকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে চাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রদর্শনী ক্ষেত তৈরি, পরামর্শ প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, অন্য দিকে সারের মূল্য হ্রাস করে সহজলভ্য করা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এই রেকর্ড পরিমান অধিক চাল উৎপাদন সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট সব মহল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে পিরোজপুরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমন চাষাবাদ মৌসুমে জেলার সাত উপজেলার ৫২টি ইউনিয়ন এবং ৩টি পৌর এলাকায় ৫৭ হাজার ৬১৭ হেক্টরে চাল উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারন করা হয় ১ লাখ ৩ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন। আমন ধান কর্তন, মাড়াই এবং ধান থেকে চাল তৈরির পর হিসেব করে দেখা গেছে যে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন বেশি চাল উৎপাদিত হয়েছে।

পিরোজপুর সদর উপজেলার ৯ হাজার হেক্টরে চাল উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১৫ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন। হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন। অনুরূপ ভাবে জিয়ানগরে ৫ হাজার ৫শ’ হেক্টরে ৯ হাজার ৬১০ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৯ হাজার ৭৩৮ মেট্রিক টন, কাউখালীতে ৪ হাজার ২শ’ হেক্টরে ৭ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৭ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন, নেছারাবাদে ৬ হাজার ৫শ’ হেক্টরে ১১ হাজার ২৬০ মেট্রিক টনের স্থলে ১৪ হাজার ২২০ মেট্রিব টন, নাজিরপুরে ৬ হাজার হেক্টরে ১০ হাজার ৯৭০ মেট্রিক টন এর বিপরীতে ১২ হাজার ৯৩৩ মেট্রিব টন, ভান্ডারিয়ায় ৭ হাজার ৫শ’ হেক্টরে ১৩ হাজার ৪৪৫ মেট্রিক টনের স্থলে ১৬ হাজার ১১৮ মেট্রিক টন এবং মঠবাড়িয়ায় ১৮ হাজার ৯১৭ হেক্টরে ৩৪ হাজার ৭৯১ মেট্রিক টনের বিপরীতে ৩৮ হাজার ৫শ মেট্রিক টন চাল উৎপাদিত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুণ রায় জানান আমনের দুটি জাতের মধ্যে উফশী জাতের ফলন স্থানীয় জাতের চেয়ে বেশি হয়েছে। বোরো চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়েছে ১৯ হাজার ৫শ’ ৪৬ হেক্টরে ৭৯ হাজার ১৩৭ মেট্রিক টন। এই লক্ষ্যমাত্রাও এবার অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

এএইচ