[b]ঢাকা: [/b]অর্থব্যবস্থা তুলনামূলক সুসংহত হওয়ায় ব্যয়সংকোচনের চাপ কমে এসেছে বিশ্বের সরকারগুলোর ওপর। সবখানেই পুনরুদ্ধার শক্তিশালী হওয়ায় আগামী দিনগুলোয় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
গত মঙ্গলবার প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি জানায়, চলতি বছর বিশ্ব অর্থনীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে। গত অক্টোবরের পূর্বাভাসের তুলনায় তা দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এছাড়া এর পরের বছর (২০১৫) বিশ্ব অর্থনীতি বাড়বে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মাধ্যমে গত দুই বছরে প্রথমবারের মতো পরিবর্তিত পূর্বাভাসে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার আশা করেছে আইএমএফ।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ অলিভার ব্ল্যানচার্ড বলেন, দেশে দেশে ব্যয়সংকোচন ও অনিশ্চয়তা কমার পাশাপাশি শক্তিশালী হচ্ছে আর্থিক ব্যবস্থা। সবকিছু মিলিয়েই প্রবৃদ্ধি বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, চলতি বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে উন্নত দেশগুলোর অবদান তুলনামূলক বেশি বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরো অঞ্চল— সবারই প্রবৃদ্ধি অক্টোবরের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হবে। এছাড়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি না বাড়লেও উন্নত বাজারগুলোয় রফতানি বাড়ায় স্বদেশের দুর্বল চাহিদার প্রভাবটি কাটিয়ে উঠতে পারবে তারা।
আইএমএফ মনে করছে, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। অক্টোবরে তা ছিল ২ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে বাজেট নিয়ে সম্ভাব্য মতানৈক্য ও প্রণোদনা হ্রাসের প্রভাব বিবেচনা করে পরবর্তী অর্থবছরে দেশটির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দশমিক ৪ পয়েন্ট কমিয়ে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস, ২০১৫ সালে বেঞ্চমার্ক সুদের হার বাড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রে।
পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ইউরো অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি চলতি বছর বেড়ে ১ শতাংশে দাঁড়াবে। ২০১৫ সালে তা আরো দশমিক ৪ পয়েন্ট বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে। চাহিদা পুনরুদ্ধারে পিছিয়ে থাকায় দীর্ঘমেয়াদে ইউরোপের পুনরুদ্ধার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে আইএমএফ। সুদের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করারও পরামর্শ তাদের; এক্ষেত্রে ঋণপ্রবাহ, কর্মসংস্থান, চাহিদা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করা উচিত।
ইউরোপে পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে এগিয়ে যুক্তরাজ্য। আইএমএফ মনে করছে ২০১৪ সালে দেশটির জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। অক্টোবর প্রতিবেদনে তা ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১৫ সালে বাড়বে ২ দশমিক ২ শতাংশ হারে।
ব্ল্যানচার্ড মনে করছেন, চলতি বছরও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি দুশ্চিন্তা হয়েই থাকবে দক্ষিণ ইউরোপ। বেলআউট কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও গ্রিসের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায়নি। মাত্রা তুলনামূলক কমে এলেও ব্যয়সংকোচন ও উচ্চ বেকারত্বের অভিশাপ এখনো পিছু ছাড়েনি সাইপ্রাস, ইতালি, পর্তুগাল কিংবা স্পেনের।
চলতি বছর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের জিডিপি বাড়বে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। অক্টোবরের পূর্বাভাসে তা দশমিক ৪ পয়েন্ট কম ছিল।
তবে বাজেট ও সরকারি অর্থব্যবস্থা সুসংহতকরণের লক্ষ্যে বিক্রয় কর বৃদ্ধি, আয়স্তরে তুলনামূলক কম প্রবৃদ্ধি— সব মিলিয়ে পরের বছরটিতে জাপানের প্রবৃদ্ধি আবারো ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে মনে করছে আইএমএফ।
২০১৪ সালে উদীয়মান দেশগুলোর জিডিপি কম-বেশি পূর্ববর্তী পূর্বাভাস অনুযায়ীই বাড়বে। দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনের জিডিপি বাড়বে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে। ভারতের বাড়বে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, ব্রাজিলের ২ দশমিক ৩ ও রাশিয়ার বাড়বে ২ শতাংশ।
তবে সতর্কবাণী হিসেবে আইএমএফ এও বলেছে, প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়ছে মানে এই নয় যে, বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকিমুক্ত। সময়ের আগেই প্রণোদনা তুলে নিয়ে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হতে পারে উন্নত দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা।
উন্নত দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করতে না পারাটা অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। কর্মসংস্থান ও ভোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জটি রয়েই যাচ্ছে, বিশেষ করে ইউরোপে। সূত্র: বিবিসি ও এএফপি।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]