বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ই-কমার্স লেনদেন হচ্ছে। তিনি বলেন, এ লেনদেনকে আরো বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ ব্যাংক টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন নিশ্চিত করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এর ফলে ই-কমার্স আরো নিরাপদ হবে এবং ব্যাংকগুলোও ঝুঁকিমুক্তভাবে ই-কমার্সের জন্য ক্রেডিট কার্ড ওপেন রাখতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বুধবার আড়ং এর ই-কমার্স সাইট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গভর্নর এসব কথা বলেন।
ড. আতিউর রহমান বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে ভোক্তার স্থান কাল পাত্রের বিভেদ ঘুচাতে ই-কমার্স সবচেয়ে কার্যকরী ভুমিকা রাখছে। উন্নত দেশগুলো এ কার্যক্রমে অগ্রনী ভুমিকা রাখলেও বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোও দ্রুত এ বৈশ্বিক ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে।
তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী ২০১৩ সালে ই-কমার্সের মাধ্যমে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পন্য ক্রয়-বিক্রয় বা বিনিময় হয়েছে; যাতে এশিয়া-প্যাসিফিকের দেশগুলো ইউরোপ আমেরিকার চেয়েও অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছে।
আতিউর বলেন, বাংলাদেশে ই-কমার্স সেবা দেবার জন্য সক্রিয় ওয়েব পোর্টাল রয়েছে ৪০টির অধিক। ১০০টির বেশি ফ্যাশন হাউজ ই-কমার্সের মাধ্যমে তাদের পন্য বিক্রি করছে।
তিনি বলেন, কুরবানীর গরু থেকে শুরু করে পদ্মার ইলিশ, নকশী কাঁথা, শাকসবজী সবই বিক্রি হচ্ছে ই-কমার্সের মাধ্যমে। এছাড়া রয়েছে ৫০০ শতাধিক ফেসবুক পেইজ,যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোডাক্ট প্রোমোট করা হচ্ছে।
গভর্নর বলেন, ই-কমার্সের জন্য পন্য উৎপাদনকারী যেসব গরীব মহিলা, ক্ষুদে উদ্যোক্তা রয়েছেন তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ টাকার হিসাব খোলার ব্যবস্থা করেছে যাতে সহজে তারা তাদের বিক্রয় লব্দ অর্থ অনলাইনে পেতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এ জাতীয় যেকোন নীতি সমর্থন দিতে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, ই-কমার্সের দ্রুত বিস্তার নিশ্চিতকরনের মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশীয় বাজারে পন্যের বিক্রি বৃদ্ধি এবং ভোক্তাকে অধিকতর সুবিধা প্রদান, অন্যদিকে বৈশ্বিক বাজারে ব্রান্ড ভ্যালু প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন বৃদ্ধি করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি ক্রেতা এবং বিক্রেতার মনোভাব এবং বাণিজ্য সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আতিউর বলেন, ব্যাংকিং লেনদেনের গতি আরো বাড়াতে রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এক ব্যাংকের গ্রাহকের হিসাব থেকে অন্য ব্যাংকের গ্রাহকের হিসাবে বড় অংকের টাকা অনলাইনে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই স্থানান্তর করা সম্ভব হবে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ই-কমার্স প্রসারে সকল ব্যাংকের বিভিন্ন লেনদেনের একক প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থাপন করা হয়েছে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ। এ ব্যবস্থায় অঞগ, চঙঝ প্রভৃতির ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে জানান তিনি।
গভর্নর বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ৫০ লক্ষ ২৪ হাজার মানুষ মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খুলে এ সেবা গ্রহন করছেন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন বিল, রেল ও ক্রিকেট খেলার টিকেট কেনা, বেতন ভাতা প্রদান, কেনাকাটা ইত্যাদি সেবাও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া যায়। মোবাইল ব্যাংকিং আজ ই-কমার্স প্রসারের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর।
ঢাকা, ১৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর





