বৈদেশিক সহায়তার অন্তত ৫০ শতাংশ স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, অধিকাংশ স্বল্পোন্নত দেশের অবস্থা বাংলাদেশের তুলনায় অনেক খারাপ। এ সব দেশের জাতীয় বাজেটের সিংহভাগ বৈদেশিক সাহায্য নির্ভর। এ জন্য সুনির্দিষ্ট সহায়তা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার জন্য উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ে আয়োজিত ‘পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে স্বল্পোন্নত দেশকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান’ শীর্ষক সাম্প্রতিক এক তাত্ত্বিক আলোচনায় মুখ্য বক্তা হিসেবে বক্তৃতাকালে এ আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে মঙ্গলবার দেশে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানা গেছে।
মুখ্য বক্তার আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ স্বীকৃত ৪৯টি স্বল্পোন্নত দেশ আজ বিশ্ব বাণিজ্যে প্রান্তিক অবস্থানে রয়েছে।
স্বনির্ভরতার পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, বৈদেশিক সহায়তার ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা হ্রাস পেয়ে বর্তমানে আমাদের জাতীয় আয়ের মাত্র ২% বৈদেশিক সহায়তার সমান।
বিশ্ব বাণিজ্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পিছিয়ে থাকার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোকে তাদের বাণিজ্য নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। যাতে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো সহজে ও বিনা শুল্কে রফতানি করতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা সমাধানে অর্থমন্ত্রী উন্নত বিশ্বের দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে যথার্থ গুরুত্ব দিতে হবে, এবং তাদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা বরাদ্দের ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক।
আলোচনার শেষ পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী ও প্যানেলিস্টরা প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। আলোচকবৃন্দ তাদের মন্তব্যে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর সাথে একমত পোষণ করে বলেন, বিশ্বের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সহায়তা প্রদানের কোন বিকল্প নেই।
সভায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রয়োজন সহায়তার গুণগত মান নিশ্চিত করা। বিশ্বের ধনী-গরীব দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে- যাতে বৈদেশিক সহায়তা থেকে স্বল্পোন্নত দেশগুলো প্রকৃত অর্থেই উপকৃত হয়।
বাংলাদেশ ও নরওয়ে কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে আবদুল মোমেন এবং নরওয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি গেইর পেডেরসেন। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বেনিনের স্থায়ী প্রতিনিধি ও স্বল্পোন্নত দেশসমূহের চেয়ারম্যান জাঁ-ফ্রান্সিস জিনসু, জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব ও স্বল্পোন্নত ল্যান্ডলক এবং স্মল আইল্যান্ড ডেভেলপিং স্টেটের হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ জ্ঞান চন্দ্র আচার্য এবং জাতিসংঘ সোশ্যাল ইকোনমিক এফেয়ার্সের বিশেষজ্ঞ উইলেম ভ্যান ডের গিস্ট।
[b]ঢাকা, ২২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]