হাতেভাজা আমন ধানের মুড়ির যথেষ্ট সুনাম ও চাহিদা থাকায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নাটোরের মুড়িপল্লীর কর্মীরা। অন্যান্য মাসে যে পরিমাণ মুড়ি উৎপাদন হয় তার দ্বিগুণ হয় রমজান মাসে।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আম-কাঁঠালের মৌসুম। তাই দম ফেলার সময় হচ্ছে না নাটোরের গোয়ালদিঘি কৃষ্ণপুরের বউ-ঝিরা। বসে নেই গ্রামের ছোট-বড় যুবকেরাও।
কৃষ্ণপুরের ১৮০ ঘর বসতির মধ্যে প্রতিটি বাড়িতেই বাণিজ্যিকভাবে মুড়ি ভেজে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর এ কারণেই গ্রামটি 'মুড়ির গ্রাম' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
জানা গেছে, ইউরিয়ামুক্ত হওয়ায় এ মুড়ি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। তবে হাতেভাজা মুড়ির যথেষ্ট সুনাম এবং চাহিদা থাকলেও রয়েছে নানা সংকট। এরপরও গড়ে প্রতিদিন স্থানীয় আড়তগুলোতে বিক্রি হয় চার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকার মুড়ি।
কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা রেবেকা জানান, এক মণ ধান থেকে মুড়ি তৈরি করলে ২৬-২৭ কেজি মুড়ি হয়। এতে করে লাভ হয় তিন থেকে চারশ' টাকা। মুড়ি তৈরিতে গ্রামের নারীদের পাশাপাশি ভাজা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত আছে গ্রামের পুরুষরা। মুড়ি গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়বে নারী ও পুরুষদের ব্যস্ততা।
মুড়ির পাইকারী বিক্রেতা শহিদ জানান, হাতেভাজা মুড়ির রয়েছে যথেষ্ট সুনাম। এখানকার উৎপাদিত মুড়ি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ফেরি করে মুড়ি বিক্রেতা শীতল জানান, রোজার পাশাপাশি বর্তমানে আম-কাঁঠাল বাজারে ওঠায় চাহিদা বেড়েছে হাতেভাজা মুড়ির।
তিনি আরও বলেন, স্বল্প পুঁজির ব্যবসা হলেও প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকার মুড়ি বিক্রি হয় গ্রামগুলোতে। তবে সম্প্রতি মহাসড়ক থেকে নসিমন, ভটভটি নিষিদ্ধ করায় পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেগ পেতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
মুড়ির আড়তদার মিলন আলী অভিযোগের সুরে বলেন, স্বল্প পুঁজির এই ব্যবসা করে কৃষ্ণপুর গ্রামে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও স্থানীয় কোনো ব্যাংক এগিয়ে আসেনি তাদের পাশে।
ব্যাংকগুলো স্বল্প সুদে এসব মুড়ি উৎপাদনকারীকে ঋণসহায়তা করলে ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
ঢাকা, ৩০ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এআর





