৪৫ লাখ ক্রেতা-পরিবেশকের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ডেসটিনি ডিস্টিবিউটার ফোরামের নেতৃবৃন্দ আবারো বলেছেন, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস সোসাইটিসহ গ্রুপের সব কার্যক্রমের স্বচ্ছতা আছে বলেই আজ পর্যন্ত কোন সদস্যদের পক্ষ থেকে মামলা হয়নি বা ডেসটিনির বিরুদ্ধে আমরা কোন অভিযোগ দায়ের করেনি।
ডেসনিটি গ্রুপের ৯০ শতাংশ সম্পদের মালিকানা সাধারন বিনিয়োগকারীদের উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ ডেসটিনির কার্যক্রম আবার চালুসহ সব সম্পত্তি অবমুক্ত করে সরকারী ছাড়পত্র দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত প্রায় ৪৫ লক্ষাধিক ডিস্টিবিউটার, বিনিয়োগকারী ও তাদের পরিবারকে চরম আর্থিক দৈন্যতার রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি কামনা করেছেন।
সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দবি করেছেন ডেসটিনি ডিস্টিবিউটার ফোরাম (ডিডিএফ) নেতারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ডেসটিনিতে এসে লাখ লাখ মানুষ তাদের বেকারত্ব ঘুচাতে সক্ষম হয়েছে। ৪৫ লাখ ডিস্টিবিউটার ডেসটিনিতে এসে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হইনি। তবে কিসের স্বার্থে আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে? কেন আমাদের লাইসেন্স প্রদান করা হচ্ছে না? এছাড়া ডেসটিনির সম্পত্তি লুট-পাটের অভিযোগ করেন তারা।
বিরাজমান পরিস্থিতিতে সাংবাদিকসহ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় নেতৃবৃন্দ বলেন, কাঁদতে কাঁদতে আমাদের চোখে এখন জলও আসে না। আমাদের পাশে দাঁড়ান প্লিজ।
এ সময় লিখিত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের নেতা শারমিন আক্তার স্বর্ণা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডেসটিনি ডিস্টিবিউটার ফোরামের মহসচিব রাজিব মিত্র। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম, ফিরোজ আলম টিপ, ফেরদৌসী হক, নাসরিন আজাদ, ফারিহা মাহমুদ প্রমুখ।
ডেসটিনি ডিস্টিবিউটার ও বিনিয়োগকারীদের বর্তমানে অসহায়ত্ব ও দুরাবস্তার চিত্র তুলে ধরে ওই সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ডিডিএফ নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে করে বলেছেন, আমরা যথাযথ নিয়ম অনুসরন করে নতুন ডিরেক্ট সেলিং নীতিমালার আলোকে আবেদন করলেও আমাদের এখনো লাইসেন্স প্রদান করেনি সরকার। তারা বলেন, সরকার ৬০০/৭০০ ডিস্টিবিউটর আছে এমন প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান করলেও ডেসটিনির প্রায় ৪৫ লক্ষাধিক ডিস্টিবিউটার ও তাদের উপর নির্ভরশীল প্রায় দেড় কোটি মানুষের স্বার্থের দিক বিবেচনা করা হয়নি। অথচ দেশের এতগুলো মানুষ আজ মানবেতর জীবন যাপন করছে। এতগুলো মানুষকে কেন কষ্ট দেয়া হচ্ছে, কেনই বা ডেসটিনির লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না-এ প্রশ্ন করেন বিনিয়োগকারীরা।
নেতৃবৃন্দ আরো অভিযোগ করে বলেছেন যে, আমাদের অর্থ এবং পরিশ্রমে গড়া এই ডেসটিনি গ্রুপের দু’টি প্রতিষ্ঠানের নামে দূর্নীতি ও অর্থ পাচার মামলা দায়ের করে রিসিভার নিয়োগ দিয়ে ডেসটিনির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ফলে একদিকে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছি অন্যদিকে আমাদের ডেসটিনির অর্থ সম্পদ ধংস ও লুট হয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রাজিব মিত্র বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূসিদুস্য ও সন্ত্রাসীরা ডেসটিনির সম্পদ জোর দখল করে নিচ্ছে। খুলনা ও বরিশালে তাদের ভূমি দখল করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। কক্সবাজারে ডেসটিনির নির্মাণাধীন হোটেলে আজ মাদক বিক্রির কেন্দ্র বানানো হয়েছে।
ডেসটিনি ট্রি প্লানটিশনের আওতাভূক্ত প্রকল্পে সন্ত্রাসীরা গাছ কেঁটে নিয়ে যাচ্ছে। ডেসটিনির সম্পদ নিয়ে হরিলুটের খেলা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজিব মিত্র বলেন, বন্দরে ডেসটিনির ৬৩ লাখ টাকার পণ্যে মাত্র কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করে দূর্নীতি করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব সম্পত্তির মালিক ডেসটিনির বিনিয়োগকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডেসটিনির মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৫ হলেও অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হলো ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। এ গ্রুপের সকল প্রতিষ্ঠানের মালিকানা প্রায় ৯০ শতাংশ ওই মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি। এখানে শেয়ার হোল্ডার প্রায় সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী। নিয়মানুযায়ী যারা সকলেই ডেসটিনির ডিস্টিবিউটার। এখানে সাধারণ জনগন বলতে যা বুঝায়, বাইরের কেউ নেই। এ সকল ডিস্টিবিউটররা স্বেচ্ছায় তাদের অর্থ এখানে বিনিয়োগ করেছে বলে দাবি করা হয়।
তারা বলেন, ডেসটিনির সকল দায় পরিশোধ করেও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের দায় দেনা পরিশোধ করা সম্ভব। এ বিষয়ে সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষন করে নেতৃবৃন্দ আশ্বস্ত করে বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে দালিলিক প্রমান উপস্থাপন করা হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমানের ডেসটিনির মোট সম্পত্তির বাজার মূল্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। যার ৯০ শতাংশের মালিক ওই সাড়ে ৮ লাখ বিনিয়োগকারী। এছাড়া অন্যদের উল্লেখযোগ্য কোন দায় ডেসটিনিতে নেই বলে দাবি করেন তারা।
ট্রি প্লানটেশনসহ কোম্পানির বিভিন্ন প্রকল্পের বিষয়ে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ৩ বছরে দুদকের অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা জটিলতার কারণে সবকিছু থমকে দাঁড়িয়েছে।
ডিডিএফ’র নেতারা বলেন, ডেসটিনির সব অর্থ সম্পদের প্রায় ৯০ শতাংশের মালিক আমরা (ডিস্টিবিউটার ও বিনিয়োগকারী)। অথচ আমরা কেউ ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোন দূর্নীতি বা অর্থ আত্বসাতের মামলা করেনি। কোন মিডিয়ায় অভিযোগ পত্র পাঠায়নি।
ডেসটিনির সাথে গত এক যুগ ধরে কাজ করছি, সেই ৪৫ লক্ষ মানুষের মধ্যে একজন ব্যক্তিও ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোথায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি।
তাহলে আমাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া কিসের আলামত, এটা কাদের স্বার্থে? কার বিরুদ্ধে এই দূর্নীতি ও অর্থ পাচার মামলা? ডেসটিনি গ্রুপের পরিচালকদের কেন দীর্ঘ হাজতবাস? এসব প্রশ্ন করেন তারা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, আমাদের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত করতে ও লাখ লাখ ক্রেতা-পরিবেশক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সর্বশান্ত করতে ডেসটিনির বিরুদ্ধে গভীর চক্রান্ত করা হয়েছে। আমাদের ধংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তারা বলেন, এটা এখন পরিস্কার যে, ডেসটিনির বিরুদ্ধে কোন ক্রেতা-পরিবেশক ও বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ নেই। তাহলে সেই অদৃশ্য শক্তি কেন ডেসটিনির ধংস করতে চাই? তারা বলেছেন, ৪৫ লাখ মানুষকে বেকার করার যড়যন্ত্রে যারা লিপ্ত তাদের অবশ্যই খুজে বের করে শাস্তি দিতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা অর্থ পাচারের কোন তথ্য পায়নি। এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকও ডেসটিনিকে অর্থপাচারের অভিযোগ থেকে ছাড় দিয়েছে বলে নেতৃবৃন্দ জানান।
অভিযোগ করে ডিডিএফ’র নেতারা বলেছেন, দুদকের কর্মকর্তারা আমাদের নিয়ে গিয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করেছেন। মিথ্যা স্বাক্ষী প্রদান না করলে তাদেরকেও ওই মামলায় জড়ানো হবে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। দুদকের উদ্দেশে তারা বলেন, এ ধরনের মামলা করলে ৪৫ লাখ ডিস্টিবিউটারদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কোম্পানির কোন পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার ব্যবস্থা নেয়া হোক কিন্ত ডেসটিনির কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে ধংসের দিকে ঠেলে না দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন তারা।
তারা বলেন, আমাদের ব্যবসা করার নাগরিক অধিকার রয়েছে। কেন ওই অধিহার হরণ করা হচ্ছে? জানতে চেয়েছেন তারা।
ডেসটিনির গ্রুপের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত কোটি মানুষের দিকে তাকিয়ে মানবিক দিক বিবেচনা করে ডেসটিনির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্স প্রদান, সম্পদরক্ষা করে দ্রুত একটি সম্মানজনক সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন ডেসটিনির ডিস্টিবিউটর ও বিনিয়োগকারীরা।
ঢাকা, ৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর





