পণ্য রপ্তানির শর্তে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা নিচ্ছে এরকম অন্তত ৪৭৭টি কারখানার অস্তিত্বই নেই। এর মধ্যে ৩১৫টি কারখানা বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার আওতায় পণ্য আমদানি করে ৭২৭ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে।

সম্প্র্রতি রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট পরিচালিত জরিপে কারখানাগুলোর এ জালিয়াতি ধরা পড়ে। অস্তিত্ববিহীন এসব কারখানার বেশিরভাগই তৈরি পোশাক খাতের। কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট এসব কারখানার আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্থগিত করে দিয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থার আওতায় রপ্তানিমুখী কারখানা শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি করার সুযোগ পেয়ে থাকে। তবে এ জন্য শর্ত হলো আমদানিকৃত কাঁচামালে তৈরি সব পণ্যই রপ্তানি করতে হবে। ওই কাঁচামাল বা কাঁচামাল থেকে উত্পাদিত পণ্য স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা যাবে না। সেই সঙ্গে প্রতিবছর কারখানার অডিট করে তা বন্ড কমিশনারেটে জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতাসহ বেশকিছু শর্ত পরিপালন করতে হয়। এসব শর্তের বিনিময়ে কারখানাগুলোকে বন্ড লাইসেন্স দেয়া হয়।

দেশে বর্তমানে প্রায় সোয়া ছয় হাজার রপ্তানিমুখী কারখানা বন্ড কমিশনারেটে তালিকাভুক্ত রয়েছে। সম্প্র্রতি বন্ড কমিশনারেট তাদের কাছে রক্ষিত ঠিকানা অনুযায়ী সব কারখানায় জরিপ চালায়। জরিপের সময় ঠিকানা অনুযায়ী আলোচ্য ৪৭৭টি কারখানা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কাস্টমস বন্ড কমিশনার ড. শহীদুল ইসলাম বলেন, এসব কারখানা বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এজন্য তাদের প্রযোজ্য হারে শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হবে। অভিযুক্ত কারখানার বন্ড লাইসেন্স স্থায়ী বা সাময়িক বাতিল করা হয়েছে। ফলে তাদের আমদানি-রপ্তানি আপাতত বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে বেশকিছু কারখানার ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। এসব তথ্য কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কারখানাগুলো সরকারের পাওনা শুল্ক-কর পরিশোধ করলে এবং নিয়ম মেনে কারখানা চালু করলে আবার বন্ড লাইসেন্স চালু করা (আমদানি-রপ্তানির সুযোগ) হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথমবারের মত এ ধরনের জরিপ কাজ চালালো বন্ড কমিশনারেট। অস্তিত্বহীন এসব কারখানার ৮০ শতাংশই গার্মেন্টস খাতের। বাকী কারখানাগুলো প্লাস্টিক, প্যাকেজিং খাতের। অস্তিত্বহীন ৪৭৭ কারখানার মধ্যে রাজস্ব ফাঁকির শীর্ষে রয়েছে ভেগা গার্মেন্টস। কারখানাটির রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ ৪৬ কোটি টাকা। ফাঁকির তালিকার শীর্ষ ১০ কারখানার মধ্যে আরো রয়েছে- ওয়্যারমেক বাংলাদেশ, আবু প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ফ্যান্টম অ্যাপারেল, লিজেন্ড ইলেক্ট্রনিক্স, ইন্টেগ্রিটি অ্যাপারেল, সঞ্জরি টয়’স, সিম প্যাকেজেজ এন্ড এক্সেসরিজ, এএসকে পলিমার ও জ্যাকস গার্মেন্টস।

বন্ড লাইসেন্স রয়েছে এমন বেশকিছু কারখানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন থেকেই বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। আমদানিকৃত কাপড়ে স্থানীয় বাজারের জন্য পোশাক তৈরি করে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি কাপড়ের আমদানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, রপ্তানির নামে ওইসব কারখানা শুল্কমুক্তভাবে কাপড় আমদানি করে তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দেয়। অন্যদিকে তারা শুল্ক পরিশোধের পর কাপড় বিক্রি করেন। ফলে সব সময় তারা একটি অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছেন।

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম জানিয়েছেন, বন্ধ তালিকায় থাকা ফ্যান্টম অ্যাপারেল সাভারের দুর্ঘটনার শিকার রানা প্লাজার পাঁচটি কারখানার একটি ছিল।

তিনি আরো বলেন, গত দুই থেকে পাঁচ বছরে যে সব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বা লাইসেন্স নবায়ন করেনি তালিকায় তাদের নামই এসেছে। এ সময় তিনি বন্ড কমিশনারেটের অডিটের পদ্ধতি ও দুই দফা অডিট করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জেআই