কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গৃহবধু হালিমা খাতুন। ছোটবেলা থেকেই তিনি একটু ব্যতিক্রম চিন্তা করতেন। জীবনটাকে দেখতেন ভিন্নভাবে। স্বপ্ন আঁকতেন কর্মব্যস্ত জীবনের, সম্ভাবনার। পড়াশোনা শেষ করে চাকুরির পিছনে ছুটেননি তিনি। চেষ্টা করেছেন নিজে স্বাবলম্বী হতে। সমাজের কর্মহীন দুঃস্থ নারীদের জন্য কিছু একটা করার বাসনা তাকে অনুপ্রাণিত করত।

উদ্যোক্তা হবার অদম্য ইচ্ছা ছিল তার। প্রতিভাও ছিল যথেষ্ট। নিজ উদ্যোগে তিনি প্রথমে সূঁই-সুতোর কাজ শিখে ২০০৫ সালে ঘরোয়াভাবে শুরু করেন হস্তশিল্পের কাজ। নাম দেন ‘মৃদুলা হস্তশিল্প’। তাকে উৎসাহ যোগায় তাঁর স্বামী। এর মাধ্যমে তাঁর সংসারে বাড়তি রোজগার আসতে থাকে।

পর্যায়ক্রমে গ্রামের কর্মহীন নারীদেরকে এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত করেন হালিমা। তাদের নিপুন হাতের বাহারী কাজের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিয়ে-শাদী বা কোন উৎসব পার্বণ এলেই মৃদুলা হস্তশিল্পের পণ্যই চাই। দিন দিন তার পণ্যের চাহিদা বাড়তে থাকে।

এ অবস্থায় ব্যবসার পরিসর বাড়ানোর বিকল্প নেই। কিন্তু তিনি পুঁজি পাবেন কোথায়? এসময় তিনি ইসলামী ব্যাংকের কুমারখালী শাখায় যান। ব্যাংক ২০১১ সালে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন স্কিমের আওতায় প্রাথমিকভাবে তাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ প্রদান করে। এ দিয়ে তিনি তার ব্যবসা প্রসার করেন। শুরু হয় হালিমা বেগমের সফলতার নবতর যাত্রা।

বর্তমানে ১২ লাখ টাকা ব্যাংকের বিনিয়োগসহ তার ব্যবসায়ের মোট মূলধন অর্ধ কোটি টাকা। ১৬ জন নিয়মিত কর্মীসহ ৪ শতাধিক নারী তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে। তার তৈরী বিয়ের শাড়ী, নকশি শাড়ী, মডেলিং শাড়ী, ওড়না, লেহেঙ্গা, কারুকার্য পাঞ্জাবি ও গৃহসজ্জা সামগ্রীসহ রকমারী পণ্য এখন স্থানীয় মার্কেটের গন্ডি পেড়িয়ে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের বৃহৎ বিপণীগুলোতে শোভা পাচ্ছে। হালিমা খাতুন এখন সফল নারী উদ্যোক্তা। দেশীয় উদ্যোক্তাদের মাঝে হালিমা আজ প্রেরণার উৎস।

হালিমা খাতুনের মত দেশের ৬৩ হাজার উদ্যোক্তাকে সফল এসএমই উদ্যোক্তায় পরিণত করেছে ইসলামী ব্যাংক।   এদের মাধ্যমে ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে যার উল্লেখযোগ্য অংশ অসহায় নারী। সেপ্টেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত এসএমই খাতে এ ব্যাংকের বিনিয়োগের পরিমাণ সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা যা দেশের মোট এসএমই বিনিয়োগ বিতরণের ২৭ শতাংশ। এসএমই’র মাধ্যমে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা পালন করছে বেসরকারী খাতের বৃহৎ এ ব্যাংকটি।

দেশের উন্নয়নের ইঞ্জিন হিসেবে বিবেচিত এসএসই খাতের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইসলামী ব্যাংক নারী উদ্যোক্তা বিনিয়োগ প্রকল্প, ক্ষুদ্র শিল্প বিনিয়োগ প্রকল্প, যানবাহন বিনিয়োগ প্রকল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা বিনিয়োগ প্রকল্প, প্রবাসী উদ্যোক্তা বিনিয়োগ প্রকল্পের মত বেশ কিছু এসএমই প্রোডাক্ট চালু করেছে। পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে এ ব্যাংক তৃণমূল পর্যায় থেকে উদোক্তা সৃষ্টি এবং পর্যায়ক্রমে তাদেরকে এসএমইতে উন্নীত করছে।

খাদ্য, কৃষিজাত, চামড়া, বস্ত্র, হস্তশিল্প, ইলেক্ট্রনিক্স, পুন:প্রক্রিয়াজাতকরণ, আমদানি ও রপ্তানি খাতসহ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা, টেলিকমিউনিকেশন, ট্রান্সপোর্ট, ইনফরমেশন টেকনোলজি, হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, ওয়ার্কশপ ইত্যাদিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসএমই বিনিয়োগ প্রদান করা হয়। দেশব্যাপী ব্যাংকের সকল এসএমই সেবা ও বিনিয়োগ পাওয়া যাচ্ছে। গ্রাহকগণ ব্যাংকের যে কোন শাখা ও ইসলামী ব্যাংক কন্ট্যাক্ট সেন্টার ১৬২৫৯ নম্বরে ফোন করেও সেবা সংক্রান্ত তথ্য পেতে পারেন।

এআই