বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে আরও ১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে দাতা বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পমিরাণ প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা। সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

এর আগে প্রকল্পটিতে ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সংস্থাটি। সব মিলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা দাঁড়াবে ৫২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪,২৭০ কোটি টাকা। প্রকল্পটিতে অতিরিক্ত অর্থায়নের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে বিশ্বব্যাংক।

রোববার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কন্ট্রি ডিরেক্টর ইফফাত শরিফ চুক্তিতে সই করেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৮ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গ্যাসভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ৩৫ কোটি ডলার দেয় বিশ্বব্যাংক। গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ কেন্দ্রটি কম্বাইন্ড সাইকেল জ্বালানিতে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

একই সঙ্গে এর ক্ষমতা ৩৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নতুন করে ১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক।

চুক্তি অনুষ্ঠানে শফিকুল আযম বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়েছে। তবে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে এর চাইতে আরও বেশি। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি কম মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়তা করবে।

এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে ব্যবসার ব্যয় কমার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন অতিরিক্ত সচিব।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি ইফফাৎ শরীফ বলেন, বাড়তি অর্থায়ন বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াবে। এ ঋণচুক্তির ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা দেড় বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হচ্ছে বলে তিনি জানান।

চুক্তি অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তে ঋণ পরিচালনাকারী অঙ্গ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) তহবিল থেকে এ ঋণ দেয়া হবে। বাংলাদেশ সরকার এ ঋণ পরিশোধের সময় পাবে ৩৮ বছর। এর মধ্যে ৬ বছর গণ্য হবে রেয়াতকাল হিসেবে। রেয়াতকাল পরবর্তী সময়ে উত্তোলনকৃত অর্থের দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে হবে।

জানা যায়, শুরুতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনে মোট ব্যয় হয়েছিল ৪৭ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক দিয়েছিল ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার। ১২ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছিল সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কমবাইন্ড সাইকেল প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির প্রয়োজন হয় তুলনামূলক কম। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে কার্বনও নির্গমন হয় কম। ২০১৬ সালে নতুন প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে আসবে।

কেবি