গেল সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৬ এবং চট্রগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) ২৭ শতাংশ লেনদেন কমেছে। তবে দেশের দুই শেয়ার বাজারের সূচকের অবস্থা ছিল ভিন্ন ছিল রকম। গেল সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমলেও চট্রগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) বেড়েছে সূচক। তবে দুই বাজারেই কমেছে লেনদেনের পরিমান।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইতে গেল সপ্তাহে লেনদেন তার আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। পাশাপাশি ডিএসইএক্স বাড়লেও নির্বাচিত সূচকগুলো ছিল নিম্নমুখী। একই অবস্থায় ছিল সিএসইতে। এ বাজারে লেনদেন কমেছে ২৭ শতাংশ। আর সার্বিক সূচক কিছুটা বাড়লেও নির্বাচিত সূচকগুলো কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ খাতে অধিকাংশ কোম্পানি ভালো মৌলভিত্তি হওয়ার এ খাতে ঝুঁকে পড়েন বিনিয়োগকারীরা। ডিএসইতে গেল সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে। এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৬৬ কোটি টাকা। তবে খাতটির বাজার মূলধন ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকায়।
বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের পর অধিক লেনদেন হয় ওষুধ-রসায়ন খাতে। নতুন কোম্পানি এএফসি এগ্রোর লেনদেন শুরু ও হিসাব বছর শেষ হওয়ায় ওষুধ-রসায়ন খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক ছিল।
এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৬৪ কোটি টাকা। তবে মুনাফা তোলার প্রবণতায় এ খাতেও বাজার মূলধন কমেছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। সপ্তাহ শেষে খাতটির বাজার মূলধনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৪০৬ কোটি টাকায়।
এছাড়া সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ কমে আসার খবরে বিনিয়োগকারীদের এ খাতের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি করেছে। খেলাপি ঋণ কমে এলে হিসাব বছর শেষে ব্যাংকের মুনাফার বিপরীতে ঋণের সঞ্চিতি সংরক্ষণ কমে আসবে। এতে খাতটির মুনাফা বাড়বে।
এমন আশাবাদ থেকে বিনিয়োগকারীদের এ খাতে আগ্রহ দেখা গেছে। ব্যাংকিং খাতে মোট ২৩৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ খাতের বাজার মূলধন দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ৫১৩ কোটি টাকায়।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে গেল সপ্তাহের তিন কার্যদিবসে সূচক কমেছে আর বেড়েছে দুইদিন। এর মধ্যে প্রথম তিন কার্যদিবসে টানা পতন লক্ষ করা গেছে। তবে শেষ দুইদিনে সূচক কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়।
লেনদেনের প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইর ডিএসইএক্স সূচক কমে ৪৫ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট। এদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি টাকায়। পরের কার্যদিবস সোমবার সূচক পয়েন্ট হারায় ২৯ দশমিক ৮১।
লেনদেন কমে দাঁড়ায় ৩৪৪ কোটি টাকায়। মঙ্গলবার সূচক কমে ১২ দশমিক ৫ পয়েন্ট। এদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৪৮ কোটি টাকা।
পরবর্তী কার্যদিবস বুধবার ডিএসইএক্স সূচক বাড়ে ৭৭ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। এদিন লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮৩ কোটি টাকায়।
শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার ১১ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বাড়ে। এদিন লেনদেন হয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংক নির্বাহীদের সভায় শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ কমিয়ে আনতে কড়াভাবে নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বাজারে কিছুটা নিম্নমুখী প্রভাব পড়ে। অন্যদিকে বেশ কয়েক দিন ধরে থাকা টানা পতনের ফলে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমে আসে।
এতে শেষ দুই কার্যদিবসে শেয়ার বিক্রিতে আগ্রহী ছিলেন না বিনিয়োগকারীরা। পাশাপাশি ক্রয়াদেশে বেড়ে সূচক কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৯৯টি কোম্পানির ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৬টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ১ হাজার ৮৬৫ কোটি ৬৬ লাখ ১৯ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৮টির, কমেছে ১১৯টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২২টির দর।
ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের চেয়ে ১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭৬১ দশমিক ১৮ পয়েন্টে। নির্বাচিত সূচক ডিএসই-৩০ গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১৬৮৮ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্টে। অন্যদিকে শরিয়াহ সূচক দশমিক শূন্য ৪৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৯৯৫ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।
দেশের অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে গেল সপ্তাহে মোট ২৪৩টি কোম্পানির ৪ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার ২৬১টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ১৮২ কোটি ১৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৪টির, কমেছে ১০৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির দর।
সিএসইর সার্বিক সূচক গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২ দশমিক ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৭৬২ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচকের মধ্যে সিএসই-৩০ গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৭৯ দশমিক ১৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১২৪৪১ দশমিক ৫২ ও সিএসইএক্স সূচক ২০ দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৯৩৪১ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় স্কয়ার ফার্মা, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যমুনা অয়েল, সাউথইস্ট ব্যাংক, লংকাবাংলা ফিন্যান্স, এএফসি এগ্রো ও গ্রামীণফোনের।
ডিএসইর সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলো হলো-এএফসি এগ্রো, বিএসসি, আরগন ডেনিমস, দেশ গার্মেন্টস, আলহাজ টেক্সটাইলস, ফাইন ফুডস, হাক্কানী পাল্প, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বেঙ্গল ওইন্ডসর ও দেশবন্ধু পলিমার।
অন্যদিকে দর হ্রাসের তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলো হলো-গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, আরএকে সিরামিকস, ম্যাকসন স্পিনিং, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, মেঘনা লাইফ, কোহিনুর কেমিক্যালস, মাইডাস ফিন্যান্সিং, আরএন স্পিনিং মিলস ও প্রাইম ইসলামী লাইফ।
[b]ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
ডিএসইতে ৩৬ ও সিএসইতে ২৭ শতাংশ লেনদেন কমেছে
গেল সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩৬ এবং চট্রগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) ২৭ শতাংশ লেনদেন কমেছে। তবে দেশের দুই শেয়ার বাজারের সূচকের অবস্থা ছিল ভিন্ন ছিল রকম। গেল সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক কমলেও চট্রগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) বেড়েছে সূচক।





