২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। বছর শেষে মূল্যস্ফীতির এই হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে। আগের অর্থবছর অর্থাত্ ২০১২-১৩ অর্থবছরে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির এ তথ্য তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনএসি) সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যমূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের খাদ্যমূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের বছর এটি ছিল ৫ দশমিক ২২ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে খাদ্যমূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কমেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বিদায়ী অর্থবছরে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আগের বছর সেটি ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।

জুন মাসে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশে যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি কমেছে খাদ্য পণ্যের। তবে বেড়েছে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি। অন্যদিকে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে যা তার আগের বছরের এই সময়ে ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে। বছর শেষে মূল্যস্ফীতির এই হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে। আগের অর্থবছর অর্থাত্ ২০১২-১৩ অর্থবছরে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) জুন মাস পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৮৬ শতাংশ। পুরো হিসাব পেলে এটি আশা করছি ৯৬ শতাংশে দাঁড়াবে।
তিনি জানান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী কল্যাণ, সড়ক বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।

মন্ত্রী জানান, জাতীয়ভাবে খাদ্যপণ্যের মূল্যেস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশ যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যেস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশে যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ।

গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ২৭ শতাংশে। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশে যা তার আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৭১ শতাংশে।

শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪২ শতাংশে যা তার আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ যা তার আগের মাসে ছিল ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যেস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নজিবুর রহমান, বিবিএসের মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা, ১০ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর