আলোচিত টিকফা চুক্তি (ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকায় দ্বি-পাক্ষিকভাবে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
একই সঙ্গে সব শর্ত পূরণ করায় আগামী জুনের মধ্যে বাংলাদেশ জিএসপি (জেনারেলাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স) সুবিধা ফিরে পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। বুধবার সচিবালয়ে ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
টিকফার ব্যাপারে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল বলেন, ৩০ জানুয়ারি টিকফা চুক্তি কার্যকর হয়েছে। খুব সম্ভবত আগামী ৬ এপ্রিল এটা নিয়ে ঢাকায় প্রথম দ্বি-পাক্ষিক একটি বৈঠক হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি প্রতিনিধি দল এখানে আসবে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও থাকবেন। এ বৈঠকে আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বালি কনফারেন্সে যে শুল্কমুক্ত বা কোটা ফি ছাড়া বাজার সম্প্রসারণের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে তা মূল বিষয় হিসেবে রাখছি।
জিএসপি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে আমরা ইতোমধ্যে বেশ কটি শর্ত পূরণ করেছি। বাকিগুলো এপ্রিল মাসের মধ্যেই পূরণ হয়ে যাবে। জিএসপি সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের তিন সচিব (অর্থ, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র) ও রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে চলতি মাসের ১৩ তারিখ একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পাঁচ দেশের রাষ্ট্রদূত থাকবেন।
এ প্রেক্ষিতে বাণিজ্যমন্ত্রী আগামী জুন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ আবারো জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করি। এর মধ্যে মাত্র ৬শ’ মিলিয়ন ডলার জিএসপির মাধ্যমে হয়ে থাকে।
সংলাপ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘সংলাপ একটি চলমান প্রক্রিয়া। এর দরজা সবসময় খোলা আছে এবং থাকবে। তাছাড়া যারা (বিএনপি) নির্বাচিত একটি সরকারকে অবৈধ বলে ঘোষণা দেয় তাদের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে না। তারপরও আমরা সংলাপ চাই। তবে কখন, কবে এ সংলাপ হবে তা বলা মুশকিল।’
বর্তমান সরকারের ওপর বাইরের কোনো চাপ আছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্’রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এ সরকারে কোনো ধরনের বিদেশি চাপ নেই। পৃথিবীর প্রায় সব দেশই এ সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধান দুই দলকে (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) আবারো সংলাপের তাগিদ দিয়েছেন মজিনা।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ৬ জানুয়ারির অবস্থানেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্র। আমরা মনে করি, একটি সুষ্ঠু ও ফলপ্রসু সংলাপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সব সংকট থেকে অচিরেই মুক্তি পাবে।’
মজিনা আরও বলেন, একটি সুন্দর আলোচনা হয়েছে। আমরা টিকফা, জিএসপিসহ বাণিজ্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করেছি। তাছাড়া দুদেশের মধ্যে বৈদেশিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপারেও আলোচনা করেছি।
[b]ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এসএমআর[/b]