কোরবানির ঈদ ও দুর্গাপুজো সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল টাকা তৈরির একাধিক চক্র। কোটি কোটি টাকার জাল নোট নিয়ে এ সব চক্র মূলত সারাদেশের পশুরহাটগুলো টার্গেট করে থাকে। জাল টাকা প্রতিরোধে গত বছরের মতো এবারও পশুরহাটগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধ বিষয়ক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে প্রচলিত নোটগুলোর মধ্যে ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোটই বেশি পরিমাণে জাল হচ্ছে। জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম ও নোটসহ যেসব প্রতারক চক্র ধরা পড়েছে সেগুলোর বেশির ভাগই ওই সব নোটের জালকারী। ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমানের নোটগুলো এখন জাল হচ্ছে না বললেই চলে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর সাড়ে ২৪ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুযোগে যাতে জাল নোট কারবারীরা সক্রিয় হতে না পারে, সে জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিশেষ করে কোরবানি ঈদের পশুরহাটে জাল নোটের লেনদেন ঠেকাতে সারা দেশের পশুর-হাটগুলোয় এবার এক হাজারের বেশি জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে সক্রিয় থাকবে ব্যাংক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাইরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী পশুরহাটগুলোর জন্য নতুন করে ২৭৮টি জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন দেয়া হচ্ছে। গত বছরের কোরবানি ঈদ পর্যন্ত রাজধানীসহ সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেয়া ৪৯৫টি মেশিন কাজে লাগানো হবে। তারা এসব মেশিন নিয়ে কোরবানির পশুরহাটে বিশেষ টহল দেবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ঢাকার ১৯টি পশুরহাটে অন্তত দুটি করে এবং ঢাকার বাইরে গুরুত্ব বিবেচনায় বড় পশুরহাটগুলোতে একটি করে ব্যাংকের বুথ থাকবে। প্রতিটি বুথে দুটি করে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন নিয়ে বিনামূল্যে সেবা দেবে ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে সারাদেশে এবার এক হাজারের বেশি জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন ব্যবহার করা হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ব্যাংকের বুথ থেকে যেকোনো ব্যক্তি টাকা পরীক্ষা করাতে পারবেন। এ ছাড়া গত রোজার ঈদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর মাধ্যমে ঢাকাসহ সারাদেশের বড় মার্কেট ও বিপণিবিতানে দেয়া ১৩০টি মেশিনও সক্রিয় থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক হতে আসন্ন ঈদ-উল-আযহা ও দুর্গাপুজোয় জাল নোট বিস্তার রোধে প্রশাসনসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি বড় বড় গরুর হাটে এবার জাল নোট শনাক্ত করার মেশিন থাকবে।

শুধু তাই নয়, রাজধানীর বড় বড় শপিং সেন্টারে, ব্যাংকগুলোতে জাল টাকা শনাক্ত করার মেশিন থাকবে। এছাড়া গোয়েন্দাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিজিলেন্স ডিপার্টমেন্টের সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমআর