বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জিএসপির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব দেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করে দেয়। এখন নতুন করে যদি আবার জিএসপি সুবিধা দেয় তাহলে বাংলাদেশও পাবে-যদি এর মধ্যে রাজনীতি ঢুকে না পড়ে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে জিএসপি ফিরে পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া শর্ত পূরণের শেষ দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
শর্ত পূরণের অগ্রগতি সন্তোষজনক উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি বিবেচনায় নেওয়া হয়, তবে তা আমাদের পোশাক শিল্পের জন্য হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মার্কিন সিনেটের প্রতি আহবান জানাবো, তারা যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জিএসপি ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনোভাবেই বিবেচনায় না নেয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে যে ১৬টি শর্ত দেওয়া হয়েছিল সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন আজই যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর-এ পাঠানো হয়েছে।
১৬টি শর্তের বাস্তবায়ন ‘অগ্রগতি সন্তোষজনক’ দাবি করে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। কিন্ত এগুলো চলমান প্রক্রিয়া।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘২শ জন পরিদর্শকের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬৭ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এজন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। ইপিজেড-এ শ্রম আইন সংশোধনের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইভাবে ডাটাবেজ-এর কাজও চলমান রয়েছে।’
আমিনুল হত্যা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটির চূড়ান্ত চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এটি এখন আইনের নিজস্ব গতিতে চলবে।’
মন্ত্রী বলেন, এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য আগামীতে যেসব নতুন ভবন নির্মাণ হবে, সেগুলো শতভাগ বিল্ডিং কোড মেনে তৈরি করা হবে।
আর বিদ্যমান যেসব কারখানা ভবনে ত্রুটি আছে সেগুলো সংস্কার ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যেসব ভবন আছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইউএসটিআর প্রদত্ত শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, আমিনুল হত্যাকাণ্ডের বিচার করা, ঝুঁকিপূর্ণ কল-কারখানা পরিদর্শনের জন্য পরিদর্শক নিয়োগ, চট্টগ্রাম ডেভলাপমেন্ট অথরিটি (সিডিএ) পুন:র্গঠনের আওতায় ৩২টি পরিদর্শকের পদ সৃষ্টি, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স (এফএসসিডি) পুনর্গঠনের আওতায় ২৬০ জন পরিদর্শক নিয়োগ, শিল্প এলাকায় ৭টি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশিষ্ট পরিদর্শকের চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, আইএলওর সহযোগিতায় ওয়েবসাইটভিত্তিক ডাটাবেইজ তৈরি, সংশোধিত শ্রম আইনের একক মৌলিক ইংরেজি অনুবাদ প্রাপ্তি নিশ্চিত করা, বিসিডব্লিউএস এবং সেফের নিবন্ধন ও পুনর্নিবন্ধন ফিরিয়ে দেয়া, বিদ্যমান শ্রম আইন ইপিজেডে প্রয়োগ এবং চিংড়ি খাতে শ্রমিকদের সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৬টি শর্ত পূরণের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল। শর্ত পূরণের শেষ দিন মঙ্গলবার। [b]ঢাকা, ১৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
“জিএসপিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিলে তা হবে দুঃখজনক”
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জিএসপির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব দেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করে দেয়। এখন নতুন করে যদি আবার জিএসপি সুবিধা দেয় তাহলে বাংলাদেশও পাবে-যদি এর মধ্যে রাজনীতি ঢুকে না পড়ে।





