ভারত থেকে রফতানি আয় ২৬ শতাংশ কমেছে। ধারাবাহিক পতন অব্যাহত রয়েছে। রুপির অবমূল্যায়নের কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে) ভারত থেকে বাংলাদেশের রফতানি আয়ের পরিমাণ ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ২২ হাজার ৪৭৮ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫৩ কোটি ৬০ লাখ ৯২ হাজার ৪৮২ ডলার। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে রফতানি কমেছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয়ের পতন হচ্ছে। অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশটিতে ঋণাত্মক রফতানি প্রবৃদ্ধি ৩২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
জুলাই-ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৭২ শতাংশ। পরের মাসগুলোয় ধারাবাহিকভাবে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির পরিমাণ বেড়েছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক শূন্য ৩, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ৩৬ দশমিক শূন্য ৯, জুলাই-মার্চ সময়ে ৩৬ দশমিক ৪ ও জুলাই-এপ্রিল সময়ে ছিল ৩২ দশমিক ২৩ শতাংশ।
এদিকে গত বছরের জুনে রুপির অবমূল্যায়ন এর আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। এ সময়ে ১ ডলারের বিপরীতে রুপির বিনিময় হার দাঁড়ায় ৫৫। এর পর থেকে স্থিতাবস্থা বিরাজ করছে। রুপির দরপতনে দেশটির আমদানিকারকদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি করা পণ্যের বেশির ভাগই শিল্পের কাঁচামাল। আর উৎপাদন সক্ষমতা না থাকায় মূল্য ওঠা-নামায় আমদানি কমানোর সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করে, সেগুলোর বেশির ভাগই মৌলিক চাহিদার পণ্য নয়। এ কারণে খরচ বেড়ে গেলে তারা পণ্যগুলোর আমদানি কমিয়ে দেয়। এতে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।
ভারত বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-পোশাক, সিরামিক ও প্লাস্টিক; পোশাক ছাড়া যার কোনোটিই মৌলিক চাহিদার পণ্য নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করে, শিল্পের মৌলিক কাঁচামাল যেমন তুলা ও সুতা। আবার ভোগ্যপণ্যের মধ্যে রয়েছে পেঁয়াজ। বেশি দাম দিয়ে হলেও এসব পণ্য আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে।
ঢাকা, ৩০ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর





