বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া রিজার্ভের ৬৬ মিলিয়ন (৬ কোটি ১০ লাখ) ডলারের পুরোটাই ফিলিপাইন থেকে ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। চার দিনের ফিলিপাইন সফর শেষে ফিরে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘চুরি হওয়া রিজার্ভের মধ্যে ৬৬ মিলিয়ন ডলার এখনো উদ্ধার হয়নি। ইনশাআল্লাহ, ওই পুরো টাকাই ফেরত পাব।’
‘ফিলিপাইনের আদালতে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি ওই দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। ফিলিপাইনের আদালতে আমরা একটি রায় পেয়েছি। আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় আছি। ওই দেশের আইন প্রতিমন্ত্রী ও চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আমাদের সহযোগিতা করে চলেছেন’ যোগ করেন আইনমন্ত্রী।
কবে নাগাদ টাকা ফেরত পাওয়া সম্ভব—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। পুরো আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই আমরা টাকা ফেরত পাব।’
গত ২৭ নভেম্বর আইনমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপাইন সফর করে। এ সময় প্রতিনিধি দলটি ফিলিপাইন সিনেটের প্রেসিডেন্ট, অর্থমন্ত্রী ও আইন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সফরের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘পাচার হওয়া রিজার্ভের পুরো অর্থই ফিলিপাইন সরকার ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরুরও আশ্বাস দিয়েছে ফিলিপাইন সরকার। এ ছাড়া জড়িতদের চিহ্নিত করতে ফিলিপাইন সরকার আবারও শুনানি শুরু করার আশ্বাস দিয়েছে।’
নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর প্রায় ১০ মাস পর সর্বশেষ ১২ নভেম্বর ফিলিপাইন থেকে প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত পেয়েছিল বাংলাদেশ। ওই দিন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘বাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপিনাস’ মারফত মোট এক কোটি ৫২ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার ফেরত পাওয়া যায়।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বাংলাদেশের চুরি হওয়া রিজার্ভের মধ্যে এক কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ডলার ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির একটি আঞ্চলিক আদালত।
জারিফ





