গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যাকান্ডের ৩ বছর অতিবাহিত হলেও প্রকৃত খুনিরা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে, অতিসত্বর হত্যাকারীদের যথাযথ বিচারের দাবি জানান আমিনুলের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম ফাহিম।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটের (ডিআরইউ) গোলটেবিল মিলনায়তনে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম হত্যাকান্ডের তৃতীয় বার্ষিকীতে হত্যাকারীদের সুষ্ঠু তদন্ত ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবী শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করে।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটির নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আক্তার বলেন, আমিনুল হত্যার পর আমরা রাজপথে আন্দোলনে নামিনি । তার মানে এই নয় যে আমরা এই হত্যা কান্ড মেনে নিয়েছি।

আমরা আমিনুলের হত্যাকারীদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে যাথাযথ শাস্তির দাবি করছি। যদি বিচার না হয় তাহলে আমরা হাজার হাজার কর্মী নিয়ে রাজপথে আন্দোলন শুরু করব।

আশঙ্কা প্রাকশ করে তিনি বলেন, আমরা জানি না পরবর্তিতে তারা আমাদের কাকে কাকে টার্গেট করে রেখেছে।

আমিনুল হত্যা কান্ডের জন্য সন্দেহকারী অভিযুক্ত মোস্তাফিজুরের মত আর কতজন মোস্তাফিজুর কে এনএসআই তৈরি করে রেখেছেন বলে ও তিনি জানান।

এনএসআইয়ের আমিনুল ইসলাম, লুৎফুর রহমান, মামুনুর রশিদ শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সকল এনএসআই সদস্যকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু এই তিন জন জড়িত বলে আমরা মনে করি।

তিনি আরও বলেন, কার স্বার্থে হত্যাকারীদের আড়াল করা হচ্ছে, তা আমরা জানিনা। কিন্তু আমরা সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই। আমিনুল হত্যা আমরা কখনোই মেনে নিবো না। যতদিন বিচার না হয় ততদিন আমরা আমাদের আন্দোলন চলবে।

যদিও আমরা জানি না শ্রমিক নেতাদেরকে, শ্রমিক আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে এনএসআই আরো কতজন মোস্তাফিজুরকে তৈরি করে রেখেছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বাবুল আখতার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ইতিমধ্যেই আমাদের ও আমিনুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিআইডির দেয়া অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের কাছে দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, সিআইডি তদন্ত করে যে অভিযোগ পত্র দিয়েছে তাতে প্রকৃত খুনিকে আড়াল করা হয়েছে। মামলাটি স্বচ্ছতার সাথে পূর্নতদন্ত করতে হবে। প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তি প্রদান করতে হবে।

উল্লেখ্য গত ৪এপ্রিল-২০১২ তারিখ রাতে নিজ কর্মস্থল মধ্য গাজিরচট অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হন আমিনুল ইসলাম। ৬এপ্রিল-২০১২ তারিখে আমিনুলের আত্মীয়রা একটি পত্রিকায় আমিনুলের ছবিসহ ১০০ কিলোমিটার দূরে টাঙ্গাইলে পরিচয়হীন একজন ব্যক্তির মৃত্যুর খবর দেখে আমিনুলের ভাই ও বিজিআইওয়াইএফ-এর নেতৃবৃন্দ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানায় যান এবং সেখানে পুলিশের তোলা ছবি দেখে সনাক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সালাউদ্দিন স্বপন, বিগফের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল আলম রাজু, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

এমএ/এমকে