শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্সধারী ১৫টি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খতিয়ে ৩৪১ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে সরকারের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।
কাগজসহ বিভিন্ন বন্ড সুবিধার পণ্য আমদানি করে এসব প্রতিষ্ঠান খোলাবাজারে বিক্রি করেছে জানিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা বলেছে, গত আট মাসে এ রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়েছে। যারা বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করেন, তারা দেশের শত্রু। এই রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটনের বিষয়টি গতকাল শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান তার কার্যালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘ওই ১৫টি প্রতিষ্ঠান কাগজসহ বন্ডেড সুবিধার বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে খোলাবাজারে বিক্রি করেছে। ৩০০ গ্রাম জিএসএমের কাগজ আমদানিনিষিদ্ধ হলেও তারা আমদানি করেছে। আমরা বেশ কিছু কারখানা পরিদর্শন করে এ অনিয়ম ধরেছি। আজও (গতকাল) চট্টগ্রামে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের বন্ডেড ইলেকট্রনিক ফ্যান জব্দ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘বংশাল ও বকশীবাজারে কিছু প্রতিষ্ঠানে চোরাই কাগজ বিক্রি হয়। সেখানে আমরা অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছি। ওইসব প্রতিষ্ঠান আমাদের কাগজপণ্যের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
বিভিন্ন সময়ে আমরা ট্রাকে অভিযান চালিয়ে চোরাই পণ্য আটক করেছি। সম্প্রতি সুপ্রিমকোটের নির্দেশে খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড—কেপিপিএলের ২৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছি। প্রতিষ্ঠানটি মাত্র তিন বছরে এ টাকা ফাঁকি দিয়েছে। তাদের আরও ফাঁকি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ফের তদন্ত করা হবে। ২৭২ কোটি টাকা আদায়ে ইতিমধ্যে কেপিপিএলকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ফাঁকির সঙ্গে যেসব কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত তাদের খুঁজে বের করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর সদস্য পারভেজ ইকবালের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটিও কাজ করছে।’
শুল্ক গোয়েন্দা জানিয়েছে, গত আট মাসে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধা বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স নিয়ে অনিয়মকারী ১৫ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও রয়েছে— উত্তরা ইপিজেডের মেসার্স কোয়েস্ট এক্সেসরিজ লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটি পিভিসি রেজিন নামের বন্ড সুবিধার কাঁচামাল দিয়ে পণ্য উত্পাদন না করে খোলাবাজারে বিক্রি করে ২ কোটি ১১ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। গাজীপুরের মেসার্স গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড টপিওকা স্টার্চ মেশিনারিজ কারখানায় স্থাপন না করে কাঁচামাল আমদানি ও ওয়্যারহাউসে না রেখে খোলাবাজারে বিক্রি করে প্রায় ৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। চট্টগ্রামের গোল্ডেন সন লিমিটেড বৈদ্যুতিক পাখা খোলাবাজারে বিক্রি করে ৮ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। মেসার্স সানরাইজ এক্সেসরিজ কাগজপণ্য ডুপ্লেক্স বোর্ড ও লাইনার পেপার কালোবাজারে বিক্রি করে প্রায় ৫০ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। ডাফ প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ডুপ্লেক্স বোর্ড খোলাবাজারে বিক্রি করে প্রায় ১১ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। মেসার্স লিবার্টি এক্সেসরিজ এইচডিপি এলডিপি আমদানিতে অনিয়ম করে ১২ কোটি টাকার অধিক শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। যাত্রাবাড়ীর মেসার্স ভিকি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড আমদানি করা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি করে সাড়ে ৭ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।
মেসার্স খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড শুল্ক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ইউপি গ্রহণ ও অবৈধভাবে কাঁচামাল সরিয়ে ২৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মেসার্স ফেডারেল করপোরেশন লিমিটেড কাগজপণ্য পেপার ও পেপার বোর্ড অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করে ৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এফএল গার্মেন্টস এক্সেসরিজ লিমিটেড কাগজপণ্য ডুপ্লেক্স বোর্ড, আর্ট কার্ড ও পিপি অবৈধভাবে সরিয়ে এবং খোলাবাজারে বিক্রি করে ৩৭ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছে। মিরপুরের মেসার্স চৌগাছা প্রিন্টিং লিমিটেড খোলাবাজারে কাগজপণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। বাড্ডার মেসার্স এস এম প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং লিমিটেড কাগজপণ্য আর্ট কার্ড ও ডুপ্লেক্স বোর্ড খোলাবাজারে বিক্রি করে সাড়ে ৬ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। উত্তরার মেসার্স তরী প্যাকেজিং লিমিটেড কাগজপণ্য আর্ট কার্ড, লাইনার পেপার ও পেপার রোল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করে সরকারের পৌনে ২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে।
এআইজে





