জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই শ্রম অভিবাসন খাতে। আজ শনিবার রাজধানীর স্প্রেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত “বাজেট ও শ্রম-অভিবাসন”শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা আরো বলেন, গত ৪০ বছর ধরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল রাখাসহ নানাক্ষেত্রে অবদান রেখে চলা এ খাতটি কখনোই গুরুত্ব পায়নি আমাদের জাতীয় বাজেটে। যথাপোযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পেলে এই খাতটি আরো বেশি অবদান রাখতে পারবে। বিশ্ব শ্রম বাজারে এই খাত থেকে আরো বেশি উপার্জনের জন্য অধিক পরিমাণে প্রফেশনাল ও দক্ষ কর্মী প্রেরণ করা প্রয়োজন। এজন্য সরকারিভাবে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে এ খাতকে আরো বেশি গতিশীল করা দরকার। গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান। মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারপার্সন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিরাপদ অভিবাসন জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অপরিহার্য। টেকসই লক্ষ্যমাত্রার ২৩০ টি সূচকের মধ্যে ৪ টি সূচক মাইগ্রেশন সম্পর্কিত। এই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভাল করার বড় একটা ব্যাটল গ্রাউন্ড হলো অভিবাসন খাতে ভাল করা। দেশ থেকে প্রতি বছর ৬-৭ লাখ লোক বিদেশ যাওয়ার ফলে বেকারত্ব সমস্যার সমাধান হচ্ছে। তবে গড় রেমিটেন্স হিসেবে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশের গড় রেমিটেন্স ভারতের চেয়ে আড়াই গুণ কম। তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কাউন্সিল ২০২০ সালের মধ্যে ৩ মিলিয়ন ও ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ মিলিয়ন দক্ষ লোক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে যা প্রবাসে শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।

অধ্যাপক রহমান পেশা বৈচিত্র্যকরণের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অভিবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ ব্যক্ত করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ এবং অভিবাসন খাতে যথাযথ পরিবীক্ষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জাতীয় অভিবাসন নীতির আলোকে বিধিমালা তৈরি ও এর প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসন বিষয়ে সরকারী উদ্যোগে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণের সুপারিশ ব্যক্ত করেন।

মূল প্রবন্ধে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা বলা হলেও জাতীয় বাজেটে অভিবাসন খাত খুবই অবহেলিত। এবারের বাজেটে অভিবাসন খাতের জন্য বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র ০.১৬ শতাংশ। অথচ অভিবাসন খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এককভাবে এ খাতের অবদানই বেশি।

জনশক্তি খাতকে আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে কিরণ বলেন, এ খাত থেকে প্রতি বছর অতি সহজে যে পরিমাণ রেমিটেন্স আসে তা আর কোন খাত থেকে আসে না। তাই অভিবাসন খাতের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের ট্রাডিশনাল শ্রমবাজার সৌদি আরব, দুবাই, কুয়েত, কাতার, ইরাক ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী প্রেরণের সম্ভাবনা আবারো জোরালো হচ্ছে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, বিদেশ থেকে প্রাপ্ত রেমিটেন্স এর পরিমান প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত উপলব্ধি করে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদাররা অনেক বেশি বিনিয়োগ করছে। সরকার স্কিলস ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল গঠন করেছে। প্রায় ২২ টি মন্ত্রণালয় স্কিলস ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছে। তিনি দক্ষতা উন্নয়নে এসব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মসূচীর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি অভিবাসন সংক্রান্ত যে কোন অনিয়ম বিএমআইটি এর অভিযোগ কেন্দ্রে জানানোর পরামর্শ দেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. মোঃ নুরুল ইসলাম, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক ড. এস এম মোরশেদ, ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার পারভেজ সিদ্দিকী প্রমূখ।

এফএফ