পরিচালনা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই পাঁচ অক্টোবরের মধ্যে নতুন পরিচালনা পরিষদ গঠন করে গ্রামীণ ব্যাংককে সরকার ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন ব্যাংকটির পরিচালক তাহসিনা খাতুন।
নতুন পরিচালক নির্বাচনে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পরিষদের পক্ষে শুক্রবার এক প্রতিবাদ বিবৃতিতে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়,গ্রামীণ ব্যাংকের বর্তমান পরিচালকেরা শুরু থেকেই এই নতুন পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিরোধিতা করে আসছি। বর্তমান পদ্ধতিতে গ্রামীণ ব্যাংকের কেন্দ্র থেকে ভোটের মাধ্যমে শাখা প্রতিনিধি, শাখা থেকে ভোটের মাধ্যমে এরিয়া প্রতিনিধি,এরিয়া থেকে ভোটের মাধ্যমে জোন প্রতিনিধি এবং সবশেষে জোন প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদের নয়টি পরিচালক পদে প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে থাকে।
এতে বলা হয়,‘সরকারের কোনো কোনো মন্ত্রী বলেন যে,গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার পছন্দের লোকদেরই কেবল গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে নির্বাচিত করেন। কিন্তু যে পদ্ধতিতে ধাপে ধাপে এরিয়া,জোন ও অঞ্চল প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, তাতে এই নির্বাচনকে প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ কারো নেই। সদস্যদ বা অন্য কোন মহল থেকে এ বিষয়ে কখনো কোন অভিযোগ ওঠেনি। ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদ বা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোন ধরণের অনিয়ম বা দুর্নীতির কোন অভিযোগও কখনো ওঠেনি।
এই পদ্ধতিতে গঠিত পরিচালনা পরিষদের অধীনেই গ্রামীণ ব্যাংক এখন পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। দেশের জন্য নোবেল পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মান বয়ে এনেছে গ্রামীণ ব্যাংক। বর্তমান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হবার আগেই এই নতুন প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধি নির্বাচনের তোড়জোড় যে বিশেষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত তা বুঝতে কারো কষ্ট হবার কথা নয়। জাতীয় সংসদ বা উপজেলা নির্বাচনের আদলে গ্রামীণ ব্যাংকের আড়াই হাজার শাখার ৮৪ লক্ষ সদস্যদের ভোটে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে গেলে যে কী হাঙ্গামার সৃষ্টি হবে তা বুঝতে কারো কষ্ট হবার কথা নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,‘আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত পরিচালকরা গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করার সরকারি ষড়যন্ত্রের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে গ্রামীণ ব্যাংকের সদস্যরা যে পদ্ধতিতে তাদের পরিচালক নির্বাচন করে আসছে তা বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি।
[b]ঢাকা, ১১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ
[/b]