সপ্তাহজুড়ে লেনদেন কিছুটা বাড়লেও সূচক কমেছে দেশের উভয় শেয়ারবাজারে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৪৭৬১ পয়েন্টে, যা সপ্তাহ শেষে দাঁড়ায় ৪৭৪৯ পয়েন্টে।
এ সময় ডিএসইএক্স সূচক কমেছে মাত্র ১১ পয়েন্ট। তবে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩৬ শতাংশ। একই অবস্থা ছিল সিএসইতেও। সিএসইর সার্বিক সূচক কমেছে ৯০ পয়েন্ট। আর লেনদেনের পরিমাণ আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেড়েছে।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে সূচকের পতন দিয়ে বাজারের লেনদেন শুরু হয়। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইএক্স সূচক কমে ৩৩ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট। এদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪২৩ কোটি টাকা। সোমবার সূচক বাড়ে ২৪ দশমিক ১৪ পয়েন্ট। এদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৫২৭ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার সূচক বাড়ে ৫ দশমিক ৩ পয়েন্ট আর লেনদেন হয় ৫৪৩ কোটি টাকা। বুধবার লেনদেন হয় মাত্র ৩৯৬ কোটি টাকা। এদিন সূচক কমে ৬ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। শেষ কার্যদিবসের লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৪৭ কোটি টাকায়। এদিন সূচক কমে মাত্র দশমিক ৩৯ পয়েন্ট।
সম্প্রতি শেয়ারবাজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎপরতা বেড়েছে। শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ অঙ্গপ্রতিষ্ঠানসহ সমন্বিত হিসাবে ইকুইটির ৫০ শতাংশ সীমা বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এ বিনিয়োগ সীমা ২০১৬ সালের মধ্যে নামিয়ে আনতেও নির্দেশনা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছে বাজারসংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিএসইসির পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি মাসেই বাংলাদেশ ব্যাংকের অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে ব্যাংকগুলোকে টেলিফোনে শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেনের তথ্য পাঠাতে নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে এ নিয়ে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
সম্প্রতি ব্যাংক নির্বাহীদের সভায় গভর্নর শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি তা কমিয়ে আনতে কড়া নির্দেশনা দেন। আর এ সভার এক সপ্তাহ পরই ব্যাংকের পাশাপাশি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের ওপর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংক ও সিকিউরিটিজ হাউসগুলোর শেয়ারবাজারে প্রধান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা হচ্ছে বিএসইসি। আর বিএসইসির সনদ নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করে।
এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নির্দেশনা জারি করতে বিএসইসির সঙ্গে অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার আলোচনা করতে হবে। ২০১২ সালে সব নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার মধ্যে এমন একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। এমনকি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেও শেয়ারবাজার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা করতে সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে এসব বিষয় আমলে না নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কয়েকটি নিদের্শনা দিয়েছে বলে জানাচ্ছে অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এতে গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরাও লেনদেনে সতর্কভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৯৭টি কোম্পানির মোট ৪৪ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ২৪৮টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ২ হাজার ৫৩৫ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৯২টির, কমেছে ১৯২টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১৩টির।
ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ১১ দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৪৭৪৯ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক ডিএসই-৩০ গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১৬৯৩ দশমিক ৯১ পয়েন্টে।
দেশের অন্য শেয়ারবাজর সিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৫০টি কোম্পানির মোট ৪ কোটি ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৩টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়। এর বাজারদর ছিল ২২৯ কোটি ৮৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৭টির, কমেছে ১৭৩টির ও অপরিবর্তিত ছিল ১০টির।
সিএসইর সার্বিক সূচক গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮৯ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১৪৬৭২ দশমিক ৭০ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক সিএসই-৩০ গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮০ দশমিক ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১২৩৬১ দশমিক ৩ পয়েন্টে।
[b]ঢাকা, ১ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]