চলতি অর্থবছরের (২০১৬-১৭) ঘোষিত বাজেটে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকরা উপেক্ষিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন(বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের(ডিইউজে) একাংশের নেতারা।
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সাংবাদিক সমাবেশে ইউনিয়নের নেতারা সরকার কর্তৃক ঘোষিত বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, সরকার এই বাজেটে সব পেশার লোকদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেছেন। অথচ সংবাদপত্র ও এর সঙ্গে জড়িত গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যাপারে কোনো সুযোগ-সুবিধা রাখেননি। একটি স্বাধীন দেশে এই বিমাতাসুলভ আচরণ ও দ্বিমুখী নীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
অবিলম্বে সরকারকে গণমাধ্যমের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি জানান সাংবাদিক নেতারা।
সভাপতির বক্তব্যে বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন হারুন গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তি দাবি করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, এরশাদ সরকারসহ কোনো সরকারই সাংবাদিকদের নির্যাতন, নিপীড়ন, গ্রেফতার ও গণমাধ্যম বন্ধ করে টিকে থাকতে পারেনি। এই সরকারও টিকতে পারবে না।
বিএফইউজে’র মহাসিচব এম আব্দুল্লাহ বলেন, বাজেট ঘোষণার পরে সব বজারে আগুন লেগেছে। সেই আগুনে জ্বলে-পুড়ে ছাড়খার হচ্ছেন গণমাধ্যম কর্মীরা। কারণ ঘোষিত বাজেটে সাংবাদিকরা উপেক্ষিত হয়েছেন।
বিএফইউজে’র অপর অংশগুলোর প্রতি আহ্বান রেখে এই সাংবাদিক নেতা বলেন, আপনারা সরকারের সুযোগ-সুবিধা পেতে মরিয়া হয়ে থাকেন। সমাবেশ ডেকে রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইলে, আর হোমিওপ্যাথিক ডোজ দিয়ে সাংবাদিকদের দাবি আদায় হবে ভাবলে ভুল করছেন। অতীতে কোনোদিনই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া ওয়েজবোর্ডসহ সাংবাদিকদের কোনো আন্দোলন সফল হয়নি। তাই এবারও অন্তত নবম ওয়েজবোর্ডের দাবিতে আসুন একাত্ম হয়ে আন্দোলন করি। কারন নবম ওয়েজবোর্ড হলে সবাই কম বেশি লাভবান হবে এবং মর্যাদা কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে।
বিএফইউজে’র সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছি। এটা হলে কোনো সাংবাদিক বেকার হতো না, চাকরি হারাতে হতো না। কিন্তু সরকার গণমাধ্যমকে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রনের জন্য এই পেশাকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দিতে গরিমসি করছে। আমরা অন্দোলনের মাধ্যমে এই দাবি আদায় করে ছাড়বোই।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, দেশের সব পেশার মধ্যে বৈষম্যের শিকার বেশি হচ্ছেন সাংবাদিকরা। তাদের চাকরির কোনো নিরাপত্তা নেই, জীবনের নিরাপত্তা নেই। তাই বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ড গঠন এখন সময়ের দাবি।
‘দৈনিক আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদসহ গ্রেফতারকৃত সাংবাদিকদের মুক্তি, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার এবং বন্ধ গণমাধ্যমগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে বিএফইউজে ও ডিইউজে।
সমাবেশে থেকে ঈদুল ফিতরের আগে কারারুদ্ধ সাংবাদিক নেতাদের মুক্তি ও বন্ধ গণমাধ্যমগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় তথ্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ সারাদেশের সাংবাদিকদের ঢাকায় এনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে’র সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রোকন, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, বিএফইউজে’র সহকারি মহাসচিব মোদাব্বের হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ডিইএজে’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, সৈয়দ আলী আশরাফ, নির্বাহী সদস্য শাখাওয়াত হোসেন মুকুল প্রমুখ।
ইআর/এমবি





