কাঁচামরিচের ঝাল হঠাৎই বেড়েছে । সপ্তাহের ব্যবধানে তা যেন আকাশে উঠে গেছে। সপ্তাহখানেক আগেও যে মরিচ বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজি, গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীদের দাবি হঠাৎ বাজারে মরিচ সঙ্কট। ক্ষেতেই মরিচ নেই। দাম বাড়বে না কেন? এ দিকে বেড়েছে পেঁয়াজের দামও।

সবজির দামও গত সপ্তাহের চেয়ে একটু চড়া। কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে প্রতিটি সবজিতেই। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।

এ হিসেবে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে ১৫ টাকা। গত সপ্তাহে ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচের দাম এক লাফে বেড়ে হয়েছে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। গত সপ্তাহেও আধা কেজি মরিচ কেনা গেছে ১৫-২০ টাকায়।

বস্তায় বস্তায় মরিচ বিক্রি হতে দেখা গেছে রিকশাভ্যানে করে। অথচ এখন মরিচের সঙ্কট চলছে। সবুজ নামের এক ক্রেতা জানান, গতকাল এক পোয়া মরিচ কিনেছেন ৫০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, বাজারে হঠাৎ করেই মরিচের সঙ্কট। আগে যেখানে বস্তায় বস্তায় মরিচ আসত, এখন আর তা আসছে না; যে কারণে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে।

ময়মনসিংহের এক চাষি গতকাল জানান, বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেছে। অনেকের মরিচ গাছ পানিতে পচে গেছে। মরিচের দাম বৃদ্ধির এটিই একমাত্র কারণ।

বৃষ্টির এ ধারা অব্যাহত থাকলে সামনে মরিচের দাম আরো বাড়বে বলে জানান তিনি। কিছু উঁচু ক্ষেত আছে যেখানে পানি জমেনি। সেসব ক্ষেতে যে মরিচ আছে, তাই এখন বাজারে আসছে।

টমেটোর দাম বেড়ে ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, টমেটোর দাম শীত না আসা পর্যন্ত এভাবেই থাকবে।

এ ছাড়া বাজারে সবজির দামও কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে।
আগের মতো ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। বরবটির কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

বৃষ্টির মৌসুমে বাজারে যে পরিমাণ দেশী ছোট মাছ থাকার কথা, তা নেই। বাজারে বড় আকৃতির কোনো ইলিশও তেমন চোখে পড়ে না। দুই দিন ধরে মানিকনগর বাজারে কোনো বড় ইলিশ চোখে পড়েনি।

ঝাটকা আকৃতির ছোট ইলিশগুলো আসছে। ৫-৬টি মাছে এক কেজি হয়। তারও দাম কেজি ৫০০ টাকা। চাষের রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। মৃগেলের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকায়। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা। পাবদা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

পাঙ্গাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। ছোট আকৃতির গুঁড়া চিংড়ি সাড়ে চার শ’ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা মেঘনার চিংড়ি বলে কিছু চিংড়ির উচ্চ দাম রাখছে ক্রেতাদের কাছ থেকে।

এইচএন