হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-লন্ডন সরাসরি কার্গো ফ্লাইট দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। আদৌ কার্গো ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে কি-না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। তবে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তারই অংশ হিসাবে বৃটিশ সরকারের আমন্ত্রনে আগামী জুন মাসে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাঁচ কর্মকর্তা লন্ডনের হিথ্রোসহ একাধিক বিমানবন্দর পরিদর্শনে যাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অনুমোদন পেতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ যে পাঁচ কর্মকর্তার নামের তালিকা বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে তাদের মধ্যে একজন কর্মকর্তা ছাড়া বাকীদের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঢাকা-লন্ডন কার্গো ফ্লাইট ও নিয়মিত ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইট পরিচালনায় তেমন সম্পৃত্ততা নেই।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ঊর্দ্ধতন এক কর্মকর্তা আজ শুক্রবার নয়া দিগন্তকে বলেন, লন্ডনের একাধিক বিমানবন্দর পরিদর্শনে যাদের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে তারা হচ্ছেন- সিভিল এভিয়েশন অথিরিটির মেম্বার (অবস) এয়ার কমোডর মোস্তাফিজুর রহমান, সিকিউরিটি কনসালটেন্ট গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব) মো. আলমগীর, সিকিউরিটি কর্মকর্তা মো. আলমগীর, সহকারী পরিচালক (ডিডি) ওয়হিদুর রহমান ও বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের একান্ত সচিব (পিএস টু মিনিস্টার) মো. নাসির মিয়া। যদিও হিথ্রো বিমানবন্দর পরিদর্শনের প্রথম তালিকায় সিভিল এভিয়েশন থেকে শাহজালাল আন্তজার্তিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসানের নাম দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তার নাম বাদ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ওই কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, হিথো বিমানবন্দর পরিদর্শনে যাওয়ার তালিকায় থাকা পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে শুধুমাত্র সিভিল এভিয়েশনের মেম্বার অবস মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়া বাকী কারোর ঢাকা-লন্ডন-নিয়মিত ফ্লাইট ও কার্গো ফ্লাইটের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কাজে সম্পৃত্ততা নেই।
এক প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা বলেন, লন্ডন ফ্লাইটে যেসব নিরাপত্তাকর্মী কাজ করছেন তাদের কাউকে সুযোগ না দিয়ে সিভিল এভিয়েশন সদর দফতরে যারা পলিসি লেভেলে আছেন তারাই এই ভিজিটে যাচ্ছেন।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সিভিল এভিয়েশনের কনসালটেন্টরা বিভিন্ন ট্রেনিংয়ে যান এবং সরকারের টাকা খরচ করেন। তার মতে, কনসালটেন্ট নেয়া হয় কিছু কনসালটেন্সি দেয়ার জন্য। কিন্তু সেটা না করে কনসালটেন্সিরাই বিদেশে প্রশিক্ষন নিতে চলে যান। শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণে যাওয়ার পরে ওই সব কর্মকর্তা ট্রেনিং শেষ হলেই সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে অধিক বেতনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে গিয়ে চাকরি নেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, স্কোয়াড্রন লিডার (অব) মাহে আলম নামের একজন কনসালটেন্ট সিকিউরিটির উপর অনেক ট্রেনিং নিয়েছেন। তাকে ট্রেনিং করাতে সরকারের পর্যাপ্ত টাকাও খরচ হয়েছে। পরে দেখা গেছে ওই কর্মকর্তা সিকিউরিটি কনসালটেন্ট হিসেবে বেসরকারি বিমান সংস্থা নভোএয়ারে যোগ দিয়েছেন। এসব বিষয় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা উচিত। তাহলেই কেবল গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-লন্ডন সরাসরি কার্গো ও নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় নিরাপত্তার পাশাপাশি বিমানবন্দরের সার্বিক শৃংখলা ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন এভিয়েশন সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা।
এ প্রসঙ্গে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গনি চৌধুরী ও মেম্বার অবস (অপারেশন্স এন্ড প্লানিং) এয়ার কমোডর এম মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করেও তাদের কারো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, অপর্যাপ্ত নিরপত্তার কারণ দেখিয়ে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং গত ৯ মার্চ ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য সরকার। এর মধ্যে পণ্যবাহী কোনো বিমানের সরাসরি অস্ট্রেলিয়া প্রবেশের উপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল দেশটির সরকার সেটি শিথিল করেছে বলে সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিমানমন্ত্রী জানান।
এমআইএস





