ব্যাংক সেবার প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছে গ্রাহক। নানা অনিয়মের কারণে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। শুধু জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ জমা পড়েছে ৮ হাজার ৮৩৭টি।  বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমারস সার্ভিস বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারি মাসে সর্বাধিক অভিযোগ এসেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, অগ্রণী ও বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকের বিরুদ্ধে। এরপরই রয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক, ডাচ্-বাংলা ও রাষ্ট্রীয় বিশেষায়িত খাতের বেসিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে। এছাড়া প্রিমিয়ার, উত্তরা ও পূবালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিযোগ এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে ৮ হাজার ৮৩৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৮ হাজার ৩২৪টি। সে হিসেবে অনিষ্পত্তি অভিযোগের সংখ্যা ৫১৩টি।
শুধু জানুয়ারি মাসে কাস্টমারস সার্ভিস ডিভিশনে ১৭৫টি এবং ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি ফ্রড ডিভিশনে ২০৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবারই প্রথমবারের মতো ভিজিল্যান্স ডিভিশনে জমা করা অভিযোগ প্রতিবেদন আকারে প্রকাশ করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে মোট ৪ হাজার ২৯৬টি অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা, যা ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৫২৬টি। সেই হিসেবে গত অর্থবছরে ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ বেড়েছে ৭০ শতাংশ।
আর ২০১২-১৩ অর্থবছরে অভিযোগের নিষ্পত্তি ৬৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ হলেও এর আগের অর্থবছরে ছিল ৯৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। এতে করে গত অর্থবছরের এক-তৃতীয়াংশের বেশি অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।
প্রতিবেদন বিশ্লেষন করে দেখা গেছে, অভিযোগের  শীর্য অবস্থানে রয়েছে সাধারণ ব্যাংকিং সংক্রান্ত। এর মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তাদের গ্রাহক হয়রানি, অর্থ আত্মসাত, ভুয়া এসএমএস ও সার্ভিস চার্জ কর্তন, সঞ্চয় স্কিমের পাওনা না দেওয়া প্রমুখ।
এছাড়া অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, ঋণ ও অগ্রিম বিতরণে অনিয়ম, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থ পরিশোধে গড়িমসি, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণা ও ডেবিট-ক্রেডিট এবং এটিএম কার্ড সংক্রান্ত হয়রানি।
[b]ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]