ব্যাংকিং খাতের এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংকের পরিচালকের সঙ্গে যোগসাজসে বেনামী বা অস্তিত্বহীন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে ঋণ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগ অনেক দিনের। আর এ অপরাধে আইন অনুযায়ী পরিচালকদের কোনো শাস্তিও ছিল না। তবে এ ধরনের অপরাধে জড়িত পরিচালকদেরও জেলা-জরিমানার বিধান যুক্ত করে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করতে যাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
নতুন আইনের খসড়াটি সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ওয়েবসাইটে দিয়ে ২১ দিনের মধ্যে মতামত চেয়েছে বিভাগটি। খসড়ায় ৫০টিরও বেশি ধারা-উপধারা সংযোজন, পরিমার্জন ও সংযোজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ সিদ্দিকুর রহমান। আগামী ২১ দিন এই খসড়ার ওপর মতামত সংগ্রহ করে তা চূড়ান্ত করবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
খসড়া আইনের ৪৬ (ঘ) ধারা নতুন সংযোজন করে বলা হয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ কোনো ঋণ জাল-জালিয়াতি বা গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে অনুমোদন করলে বা অনুমোদিত ঋণ পরে বেনামী বা অস্তিত্বহীন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির নামে দেওয়া হয়েছে প্রমাণিত হলে বা ঋণের সুবিধাভোগী বাদে অন্য কারও কাছে ঋণের অর্থ স্থানান্তর হলে বা নিজ ব্যাংকের পরিচালকের বেনামী ঋণ হিসেবে তদন্তে প্রমাণিত হলে ওই ঋণ প্রদান প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সকল কর্মকর্তা ও পরিচালকরা প্রত্যেকে দোষী বলে গণ্য হবেন। তাদের পদ থেকে অপসারণ করতে পারবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বলা হয়েছে, অপসারিত ব্যক্তিরা ফৌজদারী অপরাধে দায়ী হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট হওয়ার সময় থেকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের হিসাব অবরুদ্ধ ও সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ এবং বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।
আইনের এ ধারায় আরও বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক চাইলে যে কোনো ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালক বা এমডি বা সিইও তার তার নিম্নতর দুই স্তর পর্যন্ত কর্মকর্তাকে অপসারণ করতে পারবে।
খেলাপি গ্রাহককে ঋণ দিলে ওই ঋণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিচালক ও কর্মকর্তাদের তিন বছরের কারাদণ্ড ভোগ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে খসড়া আইনে।
এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতার নামে কোনো ঋণ সুবিধা দিয়েছে প্রমাণিত হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তা বাতিল হবে এবং তার কাছে প্রাপ্য পুরো অর্থ ফেরতযোগ্য হবে। ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে কোম্পানি আদালতে মামলা করতে পারবে। খেলাপি গ্রাহককে নতুন করে ঋণ দিলে ওই ঋণ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত সকল পরিচালক ও কর্মকর্তাদের কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা ৩ বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড হবে।
এতদিন ব্যাংকের পরিচালকদের ঋণ নিতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির কোনো শর্ত ছিল না। খসড়া আইনে এ শর্ত যুক্ত করে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত গ্যারান্টি ছাড়া বিনাজামানতে কোনো পরিচালকের পরিবারের সদস্যকে ঋণ দেওয়া যাবে না।
এএইচ





