রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে ধান ও আমের মিশ্র চাষে কৃষকরা নীরব বিপ্লব ঘটাচ্ছেন। রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপজেলাগুলোতে ধান ও আমের মিশ্র চাষ পদ্ধতিতে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে নওগাঁর সাপাহারে যেতে রাস্তার দু'ধারে ধান ও আমের মিশ্র চাষের বাগান দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর। রাজশাহী গোদাগাড়ীর কৃষি কর্মকর্তা ড. সাইফুল ইসলাম জানান, ২০০৫ সালের প্রথম দিকে বিএমডি ধানের জমির আইলে আম্ররুপালি জাতের আম গাছ রোপণ করা হয়। অল্প দিনের মধ্যে জমির আইলের গাছে লম্বা লম্বা আম দেখে সবাই উৎসাহিত হয়। পরে স্থানীয় কৃষকরা নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার বিঘা জমিতে ধানের পাশাপাশি আম গাছের চারা রোপণ করেন। এসব আম গাছে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে আম হতে থাকে। ফলে এখন আম ও ধান চাষের বিপ্লব ঘটেছে বরেন্দ্র অঞ্চলে।
নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার কৃষক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি পৈতৃক সূত্রে ৩৫ বিঘা জমি পেয়েছেন। তার মধ্যে ২০ বিঘা জমিতে ধান ও আমের মিশ্র চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। তিনি আরও জানান, সারা বছর জমিতে ধান ও গম চাষ করে বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকা পাওয়া যেত। কিন্তু এখন আম চাষ করে প্রতি বছর আরও প্রায় ২০ হাজার টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এতে আমার লাভ হচ্ছে দ্বিগুণ।
একই গ্রামের নজরুল ইসলাম তার বাড়ির পাশে জমিতে ধান ও আম চাষ করেন। তিনি বলেন, একই জমিতে পরপর ধান চাষ করলে আমের ক্ষতি হচ্ছে। তবে একবার ধানের পাশাপাশি অন্য ফসল করলে আমগাছগুলোর স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং ফসল ভালো হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার কন্যনগরগ্রামে মা নার্সারির পরিচালক ইসমাইল জানান, ২০০৫ সাল থেকে এই এলাকায় ব্যাপক আম গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে। আগে বছরে দেড় লাখ চারা বিক্রি হলেও এখন বছরে চার থেকে পাঁট লাখ চারা বিক্রি হচ্ছে। ওই এলাকার বরেন্দ্র জমিতে তেমন ফসল হচ্ছিল না। গাছ লাগানোর ফলে বৃষ্টিপাত বেশি হচ্ছে এবং ফসলও ভালো হচ্ছে। গোদাগাড়ী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান, কৃষকরা সুযোগ পেলে যে বিপ্লব ঘটাতে পারেন, তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ধান ও আমের মিশ্র চাষ পদ্ধতি।
[b]ঢাকা, ২৮ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]