নতুন বছরের দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারীতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও খাদ্যমূল্যে সামান্য বেড়েছে। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও খাদ্য বহির্ভূত খাতে হয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। যা জানুয়ারী মাসে ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি জানুয়ারির ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ থেকে বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) আনুষ্ঠানিকভাবে ফেব্রুয়ারি মাসের মূল্যস্ফীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রকাশ করে। এ উপলক্ষে আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিবিএসের মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামালসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এ সময় গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, সার্বিক মূল্যস্ফীতি মোটামুটি স্থিতিশীল। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করায় মূল্যস্ফীতি তেমন একটা বাড়েনি। তবে বাড়ী ভাড়া, আসবাবপত্র, পরিবহন ও সেবাসহ বিভিন্ন খাতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, মজুদ থাকা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে চাল, ডাল, আটা, মাছ মাংস, ভোজ্য তেল, দুধ ও তামাক জাতীয় দ্রবাদির দাম বেড়ে যায়। জানুয়ারি মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য সামগ্রী উপ-খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে শতকরা দশমিক ২৪ ভাগ। যা জানুরারি মাসে ছিল শতকরা দশমিক ৮৪ ভাগ।
এছাড়া, পরিধেয় বস্ত্রাদি, বাড়ী ভাড়া, আসবাবপত্র ও গৃহস্থালী, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন, শিক্ষা উপকরণ এবং বিবিধ দ্রব্য ও সেবাসহ বিভিন্ন খাতের মূল্য বৃদ্ধির কারণে খাদ্য বহির্ভুত উপখাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এ খাতে কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ১৪ ভাগ। যা জানুয়ারি মাসে ছিল ১ দশমিক ৭১ ভাগ।
গত এক বছরের (মার্চ,২০১৩ থেকে ফেব্রুয়ারি, ২০১৪)  গড় মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৭ ভাগ।  যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬ দশমিক ১৫ ভাগ।
এছাড়া ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি সূচক হার বেড়েছে। চলতি মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১২৩ দশমিক ২৯ ভাগ। যা জানুয়ারি মাসে ছিল ৮২২৬ দশমিক ৪৮ ভাগ। মজুরি সূচক হারের ভিত্তিতে দুই মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে জাতীয় মজুরির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে তা এসে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ ভাগ। যা জানুয়ারি মাসে ছিল শতকরা ৯ দশমিক ২৩ ভাগ।
উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ।
[b]ঢাকা, ৬ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]