শিল্পঋণে অতিরিক্ত সুদ নিচ্ছে অধিকাংশ ব্যাংক। ফলে শিল্পোদ্যোক্তারাও এ ঋণ গ্রহণে খুব বেশি আগ্রহী হচ্ছেন না। এতে ব্যাহত হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিও। বাংলাদেশ ব্যাংকের
ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে ১৯টি ব্যাংক শিল্পঋণে অতিরিক্ত সুদ নিচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, তারল্য পরিস্থিতি বর্তমানে সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। তাই শিল্প খাতে উচ্চ হারে সুদ আদায় কোনোমতেই যৌক্তিক নয়। ১৯টি ব্যাংক বৃহত্ ও মাঝারি শিল্পে মেয়াদি ঋণ খাতে সাড়ে ১৫ শতাংশ সুদ আরোপ করেছে। তাদের চিঠি দিয়ে সুদহার কমানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
ব্যাংকগুলো হলো-বেসিক, বাংলাদেশ কমার্স, ব্র্যাক, ঢাকা, এক্সিম, আইসিবি ইসলামিক, মার্কেন্টাইল, উত্তরা, এনসিসি, শাহজালাল ইসলামী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, প্রিমিয়ার, দি ফার্মার্স, মেঘনা, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স, ইউনিয়ন, এনআরবি, মধুমতি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শিল্পঋণের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে এ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি মূলধনি ও মেয়াদি ঋণ ছিল যথাক্রমে ৯১ হাজার ৫০৭ কোটি ও ৩০ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা।
আলোচ্য সময়ে শিল্পঋণের ২ দশমিক ২৩ শতাংশ বিতরণ করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এছাড়া বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ৭৯ দশমিক ৫২, বিদেশী ব্যাংকগুলো ১১ দশমিক ১০, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ২ দশমিক ৬৮ এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে শিল্পঋণ বিতরণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে শিল্পঋণ বিতরণ বেড়েছে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ।
ঢাকা, ২ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এমআর





