শেষ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ১৯তম আসর। সোমবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সামাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, এই মেলা আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও বিশ্বে আমরা সুনাম অর্জন করেছি। এতো কিছুর মধ্যেও ১৪.৬৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হয়েছে।
তিনি আশা করে বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৫০ বিলিয়ন ডলারে উর্তীন্ন করবো। ইতিমধ্যেই অনেক দেশ আমাদের কোটা ফ্রি পণ্য প্রবেশে সুবিধা দিয়েছে। আগামীতে আমেরিকাতেও কোটা ফ্রি সুবিধা পাবো বলে আশা করছি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যবসাবাণিজ্য ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি সহায়ক হলে আগামী ৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে।
এজন্য অর্থনীতিকে রাজনীতি থেকে আলাদা করে ভাবতে হবে। এতে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং ২০২১ সালে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ইউরোপ আমেরিকার পাশাপাশি আমাদের রপ্তানি পূর্বমূখী করতে হবে। এরমধ্য দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আমাদের শুল্ক মুক্ত রপ্তানি সুবিধা দিয়েছে। তাই এসব সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
বাণিজ্য মেলার জন্য স্থায়ী জায়গা ঠিক করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন পূর্বাচলে জায়গা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতে সেখানে মেলা বসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন, বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহম্মেদ, এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ বসু, মেলা পরিচালক এ এফ এম মনজুর কাদিরসহ আরো অনেকে।
১৯ তম ঢাকা আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যমেলায় শ্রেষ্ঠ ভ্যাটদাতা এবং সেরা প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়নের পুরষ্কার পেল দেশীয় প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। মেলার আয়োজক রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রনালয় সমাপনী দিনে ওয়ালটনকে পুরষ্কৃত করে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বনামধণ্য বিভিন্ন কোম্পানিকে (স্টল ও প্যাভিলিয়ন) পুরষ্কার করা হয়। এর মধ্যে এবার মেলাতে দুইটি ক্যাটাগরিতে প্রথম পুরষ্কার জিতে নিয়েছে দেশের শীর্ষ ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইলস ও গৃহস্থলী পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন।
অন্যদিকে সর্বোচ্চ করদাতার (সবচেয়ে বেশি মূসক বা ভ্যাট প্রদানের জন্য) পুরষ্কারও পেয়েছে ওয়ালটন। অন্যবারের মতো এবছরও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দিয়েছে ইপিবি। এ তালিকায় আছে ৪৩ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মেলার সাধারণ প্যাভিলিয়ন, সংরক্ষিত সাধারণ প্যাভিলিয়ন, মিনি প্যাভিলিয়ন, সাধারণ স্টল ও সেবা খাত এ চার ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
স্থাপত্যশৈলী, রপ্তানিকারক কি না, পণ্যের ব্র্যান্ড ভ্যালু, প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন করে কি না, প্যাভিলিয়নে কত বেশি লোকবল ও তাদের আচরণ, প্যাভিলিয়নের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বিক্রির পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়ের উপর বিবেচনা করে পুরস্কার দেয়া হয়।
প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন কোটায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছে ওয়ালটন, দ্বিতীয় পুরস্কার পায় হাতিল এবং তৃতীয় পুরস্কার পেল পারটেক্স ফার্নিচার ও ক্লাসিক্যাল হোমস।
সাধারণ প্যাভিলিয়ন গ্রুপ থেকে প্রথম পুরস্কার পায় রংপুরের কারুপণ্য, দ্বিতীয় পুরস্কার পায় ইসলামী ব্যাংক। প্রিমিয়ার মিনি প্যাভিলিয়ন গ্রুপ থেকে পুরষ্কৃত হয়েছে আব্দুল মোনেম লিমিটেড, ঢাকা আইসক্রিম এবং রুমানিয়া ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড। প্রিমিয়ার স্টল গ্রুপ থেকে প্রথম হয়েছে কিংস ফুড, দ্বিতীয় হেলাল অ্যান্ড ব্রাদার্স ও হামদর্দ লিমিটেড এবং তৃতীয় প্রাণ বেভারেজ।
এদিকে সাধারণ স্টল ক্যাটাগরিতে প্রথম লাভা, দ্বিতীয় ইস্ট এশিয়া কক্স লিমিটেড এবং তৃতীয় সাত্তার মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ।
সাধারণ সংরক্ষিত মিনি প্যাভিলিয়ন থেকে বিশেষ পুরষ্কৃত হয়েছে সোনালী ব্যাংক, ডাচ বাংলা ও বেসিক ব্যাংক। এ গ্রুপে বিশেষ পুরস্কার পাচ্ছে ম্যাক্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেড, নাদিয়া ফার্নিচার, এশিয়ান টেক্সটাইল, নাভানা ফার্নিচার, সিঙ্গার বাংলাদেশ ও আকতার ফার্নিচার। ফুড স্টল থেকে পুরস্কার পায় হারভেস্ট রিচ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি, বঙ্গজ বিস্কুট, মাসাফি ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট।
বিদেশী প্যাভিলিয়নের মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয়। এগুলো হলো- জর্ডানা কালার কসমেটিক্স করপোরেট, তুরস্কের ওয়ারিয়ান্টাল ইস্তাম্বুল ক্রিস্টাল সান টিসি, এমকে সিঙ্গাপুর এবং ইন্ডিয়া কারপেট।
এ ছাড়া অনুন্নত এলাকা বিবেচনায় সাধারণ স্টল বিভাগে রাঙ্গামাটির বিয়াশালী হ্যান্ডিক্র্যাফট, বনানী টেক্সটাইল, রানা টেক্সটাইল-কুষ্টিয়া এবং মণিপুরি টেন্ট ইম্পেরিয়াল পুরস্কার পায়।
মেলার ১৯তম এ আসরে লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বরাদ্দের প্রদানযোগ্য স্থাপনার সংখ্যা ৪৭১টি। এর মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ছিলো ৯৬টি, মিনি প্যাভিলিয়ন ৪৯টি, স্টলের সংখ্যা ৩১৬টি এবং রেস্তোরা ছিলো ১০টি। দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি ভারত, ইরান, চীন, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্কসহ প্রায় ১২টি দেশের পণ্য প্রদর্শিত হয়
[b]ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
শেষ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা
শেষ হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ১৯তম আসর। সোমবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সামাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, এই মেলা আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত।





