তিনটি আখ মাড়াই মওসুমের প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের ১৩ হাজার ৮০ টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় গুদামে পড়ে থাকায় তীব্র অর্থ সঙ্কটে পড়েছে কালীগঞ্জের মোবারকগঞ্জ চিনিকল। ফলে গত দুই মাস ধরে মিলের প্রায় এক হাজার শ্রমিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া টাকা অভাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে না পেরে চলতি আখ মাড়াই মওসুমের উদ্বোধনের তারিখ তিন দফা পিছিয়েছে।

২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ আখ মাড়াই মওসুমের প্রায় ১৩ হাজার ৮০ টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। এর মধ্যে ২০১১ ও ২০১২ সালের নয় হাজার ৫শ’ টন চিনি রয়েছে। তিন বছর ধরে গুদামে থাকায় চিনিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ডিলাররা চিনি কিনছে না।

সম্প্রতি চিনি শিল্প করপোরেশন বিক্রির হার বাড়ানোর জন্য ৪০ টাকার চিনি ৩৭ টাকা দর নির্ধারণ করলেও ডিলাররা ক্রয় করছে না। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের আওতায় ৩৯ ডিলার রয়েছে। তাদের প্রতি মাসের প্রাপ্য চিনি মিল থেকে তুললে এই সমস্যা হতো না মনে করে কর্তৃপক্ষ।

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন  জানান, আগামী ২০১৪-১৫ আখ মাড়াই মওসুমে ছয় হাজার ৬৩৫ একর জমি থেকে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টন আখ চিনিকলে আসবে। যা থেকে আরও সাত হাজার টন চিনি উৎপাদন করা হবে। গত তিন বছরের চিনি গুদামে থাকায় আগামী মওসুমের চিনি কোথায় রাখা হবে, তা নিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ চিন্তিত।

এ ব্যাপারে ডিলার সরোয়ার হোসেন  জানান, বর্তমানে বাজারে চিনির চাহিদা একটু কম। তাছাড়া এখানকার চিনি একটু লাল রঙয়ের। ক্রেতারা সাদা চিনির প্রতি আগ্রহী বেশি। ফলে তারাও এই মিলের চিনি কম ক্রয় করেন।

মোবারকগঞ্জ চিনিকলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মসিউর রহমান স্বপন  জানান, মিলের গুদামে তিন বছরের চিনি নষ্ট হচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা দুই মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। বার বার চিনি খোলা বাজারে বিক্রির জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হলেও তা হচ্ছে না।

শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০১৪-১৫ আখ মাড়াই মওসুম উদ্বোধনের তারিখ তিন বার পরিবর্তন করা হয়েছে। সর্বশেষ ৫ ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। টাকা না থাকায় কর্তৃপক্ষ যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে পারছে না। তবে সঠিক সময় টাকার ব্যবস্থা না করতে পারলে উদ্বোধনের তারিখ আবারও পরিবর্তন হতে পারে বলেও জানান তিনি।

দক্ষিণ-পশ্চিাঞ্চলের অন্যতম ভারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান মোবারকগঞ্জ চিনিকল ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৭-৬৮ সালের আখ মাড়াই মওসুম থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হয়। মিলটি ৪৬ মাড়াই মওসুম পার করেছে। এর মধ্যে ১৬ বার লাভের মুখ দেখলেও মওসুমগুলোতে ১শ’ কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে।

জেআই