গত চার বছরে প্রবাসী আয় উর্ধ্বগতি থাকলেও এবছর প্রবাসী আয়ে আবার মন্দা দেখা দিয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে প্রবাসী আয় আসে ১৪৯৩ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার।  সেই তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১২৭৬ কেটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা।  এ হিসেবে বছরের ব্যবধানে রেমিটেন্স প্রবাহ কমেছে ১৪.৪৭ শতাংশ। যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর আগে ২০১১-১২ অর্থবছরে ১২৮৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। পরের চার বছরে আয় উর্ধ্বমুখী ছিল। এবারের ঈদে প্রবাসী আয়ের উর্ধ্বগতি ধারণা করা হলেও তা অর্জন হয়নি।

এর সুনির্দিষ্ট করণ খুঁজতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তার আগের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ আয় কমেছে।  আয় কমার কারণ হচ্ছে মার্কিন ডলারের সাথে বিভিন্ন দেশের কারেন্সির অবমূল্যায়ন হয়েছে। সরকার রেমিটেন্স বৃদ্ধির জন্যে প্রেরণের খরচ কিভাবে কমানো যায় তা পর্যালোচনা করে দেখছে।

অর্থনীতিবীদরা মনে করছেন, জ্বালানি তেলের দাম কমা কিংবা অবৈধ পথে টাকা পাঠানোর কারণে ধারাবাহিক ভাবে প্রবাসী আয় কমছে। একই সঙ্গে ডলারের বিনিময়ের হার কমার কারণে রেমিটেন্স আয়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে আন্ত:দেশীয় উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ তাদের।

সিপিডি রিচার্জ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম বলেন, অবৈধ উপায়ে রেমিটেন্স পাঠানোর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোনো না কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশের জিডিপির ১২ শতাংশ অর্থ আসে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ থেকে। আর এ আয়ের অর্ধেকেরও বেশি আসে মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত, ও বাহরাইন থেকে।

রেমিটেন্স কমে যাওয়ার কারণ বের করে ব্যবস্থা নিতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে আশার দিক হচ্ছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পরেও আবার খুলেছে সৌদি শ্রমবাজার। 

 

ইমন