বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সচেষ্ট হতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। রাজস্ব আদায়ের আওতা বাড়ানোর জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অর্থ, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত সমন্বয় কমিটির বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বৈঠকে অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইএমইডি সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিসহ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরা হলে অর্থমন্ত্রী এবং পরিকল্পনামন্ত্রী উভয়ই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় জানানো হয়, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যেখানে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল, সেখানে চলতি অর্থবছরের একই সময় অর্থাৎ প্রথম তিন মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। বৈঠকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে এডিপি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে রাজস্ব আদায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গত অর্থবছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় ভালো।
তবে লক্ষ্যমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়ের হার কিছুটা কমেছে। তবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনযোগ্য বলে বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন।
অর্থমন্ত্রী এনবিআরকে রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়ানোর ওপর জোর দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সময় বলা হয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, এমনকি গ্রাম পর্যায়ে এখন অনেকের আয় করযোগ্য। কিন্তু এরা এখন পর্যন্ত করের আওতায় আসেননি। বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ে রাজস্ব আফিস স্থাপনের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্র্রার (ইসিআর) মেশিন বন্ধ করে কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। কর ফাঁকি দেওয়ার এ প্রবণতা বন্ধে এনবিআরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ইসিআর মেশিন ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে এনবিআর চেয়ারম্যান বৈঠকে অবহিত করেন।
বৈঠকে এনবিআরের পক্ষ থেকেও এডিপি বাস্তবায়ন জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বলা হয়, এডিপিতে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি দ্রুত সম্পাদন করতে হবে। প্রকল্প এলাকার জন্য মেশিনারিজ আমদানি করলে রাজস্ব আয় বাড়বে।
রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা যখন নির্ধারণ করা হয়, তখন এ বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এডিপি বাস্তবায়নে গতি পেলে রাজস্ব আদায়ও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বকেয়া শুল্ক ও করের পরিমান প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। এ অর্থ পরিশোধ হলেও রাজস্ব আদায়ের হার বাড়বে বলে বৈঠকে অবহিত করা হয়।
বৈঠকে বলা হয়, চলতি অর্থবছর রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ বিলিয়ন ডলার। এরই মধ্যে ১০ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে।
আশা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যে এর পরিমান ১৫ বিলিয়ন ডলার পার হয়ে যাবে। অর্থাৎ চলতি অর্থবছর রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে। বৈঠকে দেশে আমদানির পরিমাণ নিয়েও সন্তুষ্ট প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, দেশে রাজনৈতিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। কাজেই রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।
রেমিট্যান্সের প্রবাহ ভালো বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সমন্বয় কমিটির বৈঠকে আশ্বস্ত করা হয়। বিশেষ করে মালয়েশিয়া, জাপান ও সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে ১৫ লাখ কর্মী নেওয়ার অগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে জনশক্তি রপ্তানি হচ্ছে। এটা বেসরকারিভাবে করা যায় কি না, সে বিষয়ে চিন্তভাবনা করছে সরকার। জাপান ও সৌদি আরব তাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী নেবে। এসব শ্রমিককে বাংলাদেশেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
এমআর





