স্থিতিশীলতার পথে এগুচ্ছে পুঁজিবাজার। আস্তে আস্তে ঘুরে দাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে সব সূচক। ঈদ পূর্ব এবং ঈদ পরবর্তী কার্য দিবসগুলোতে পুঁজিবাজারের দৈনিক লেনদেন, বাজার মূলধন ও সূচকের পরিমাণ বাড়ছে অব্যাহতভাবে। এগুলোই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পরিস্থিতির। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ফিরতে শুরু করেছে। এছাড়া স্টক হোল্ডারদের সক্রিয়তাও পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে সাম্প্রাতিক সময়ে বিশেষ কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞগন।
বিষয়গুলো হলো- বহুজাতিক ও বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ, ব্যাংক জমার সুদের হার কমানো, অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরের নিম্নমুখিতা, নতুন ফান্ডের প্রবেশ এবং বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় বৃদ্ধি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী কার্দিবসে গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো বিএসআরএম স্টীল লাফার্জ সুরমাসহ অন্য বড় কোম্পানির শেয়ার দর বাড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। এসব কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে মোট লেনদেনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। যার পরিমান মঙ্গলবার প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ছুইছুই করেছে।
এদিকে সরকারি ব্যাংকসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের আমানতের জমার হার কমিয়েছে। মূলত ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগযোগ্য তহবিল অলস পড়ে থাকার কারণে এই সুদের হার কমানো হয়েছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংকে আমানতে দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত সুদ কমানো হয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক টাকা জমার পরিবর্তে পুঁজিবাজারে অর্থ বিনিয়োগ করেছে। যা বাজার স্থিতিশীলতার অন্যতম ইস্যু।
এদিকে বিগত সাড়ে তিন বছরের বাজার মন্দায় অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর তলানিতে এসে ঠেকেছে। বেশিরভাগ সেক্টরের মূল আয় অনুপাত (পিই রেশি) ২০ এর নিচে অবস্থান করছে। তাই এসব হ্রাসকৃত শেয়ারে মধ্য বা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ লাভ হয় বিধায় বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ারে বিনিয়োগ করে চলেছেন।
সর্বশেষ সম্প্রতি পুঁজিবাজারে ঘন ঘন প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন পাওয়ায় বিও অ্যাকাউন্ট খোলার পরিমাণ বেড়েছে। এছাড়া সেকেন্ডারি মার্কেটে স্থিতিশীলতার আভাস পাওয়ায় পূর্বের নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলো সক্রিয় হতে শুরু করেছে। আগের তুলনায় বর্তমান সময় পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ অনেকাংশে বেড়েছে। যার ফলে পুঁজিবাজারও স্থিতিশীলতার পথে এগুচ্ছে।
এ ব্যাপারে একজন বাজার বিশেষজ্ঞ বলেন, লেনদেনের নিষ্পত্তির সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। যা লেনদেন বৃদ্ধির অন্যতম ইস্যু। এছাড়া ব্যাংক জমার সুদের হার কমানো এবং বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি বাজারে নতুন ফান্ডের প্রবেশের কারণে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজারে স্বাভাবিকতা বজায় থাকলে বিনিয়োগকারীরা ছন্দ ফিরে পায় বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, বিনিয়োগকারীরা পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তাই যেকোনো ইস্যুই এখন বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করতে সময় নেয়। বাজার উন্নয়নে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ স্টক এক্সচেঞ্জগুলো খুব ভালো কাজ করছে। নিত্য নতুন মার্কেট তৈরিতে তথা পুঁজিবাজারের বৈচিত্র্য আনতে একযোগে কাজ করা হচ্ছে। যা পুঁজিবাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরো জানান, এই পুঁজিবাজার এক সময়ে অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তাই বাজারের প্রতি আস্থা রেখে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে যাওয়া উচিত। বর্তমান বাজার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বাজারের এই সুযোগকে কাজে লাগানোর জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহবান জানান।
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এএইচ





