ফ্রান্স থেকে ওয়াহিদুজ্জামান: আমরা নিরুপায়, হতাশাগ্রস্থ, কোথায় যাবো? কার কাছে সমাধান চাবো? বিদেশ-বিভূঁই আছি; সবাইকে ছেড়ে! যাদের জন্য এ বিদেশ, তারাই যদি শান্তিতে না থাকে তবে কিসের জন্য পরদেশে এ ভিক্ষাবৃত্তি? কেন এই অনিদ্রা? আমরা শ্বাসরুদ্ধ, একটু নিঃশ্বাস ছাড়তে দিন।

দয়া করে বাঁচান আমাদের দেশকে। দেশটা শুধু আপনাদের না। খেটে খাওয়া দিনমজুর, কৃষক-শ্রমিক এবং প্রবাসীদের পাঠানো টাকায় গড়া সরকার বুলেট বিদ্ধ করছে আমাদেরই স্বজনদের। লুটে-পুঁটে খাচ্ছে পিশাচেরা। আপনাদের বিলাস-বাসনের টাকা কোত্থেকে আসে? একটু চিন্তা করে কাজ করুন।

রোববার বিকালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের প্রজাতন্ত্রের স্থানে PLACE DE LA RÉPUBLIQUE “বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী সচেতন নাগরিক সমাজ, ফ্রান্স” এর ব্যানারে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।

তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকল দলের অংশ গ্রহণের ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বহির্ভূত রাষ্ট্রযন্ত্র কর্তৃক হত্যা, গুম ,জুলুম-নির্যাতন ও সকল প্রকার নৈরাজ্য-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানের কথা জানান। শত শত প্রবাসীরা বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডসহ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন ।

সৈয়দ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এম এ তাহের, মোহাম্মাদ আল আমিন, ফারুক ভূঁইয়া, হেনু মিয়া, জালাল খান, মিছবাহ আহমেদ, শ্যামল দাস সানী, জুনায়েদ আহমেদ ও কমিউনিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, আমাদের রক্ত পানি করা টাকা দেশে গেলেই তা কাগজে পরিণত হয়। নানা উৎকোচ, হুমকি-ধমকি এবং মুক্তিপণ দিতে দিতে আমরা আজ অতিষ্ঠ। নষ্ট রাজনীতিবিদরা যতদিন না সরবেন ততদিন দেশ উন্নতি হবে না। তাদের একাউনটে এত টাকা ঢুকে কিভাবে? কই থেকে আসে? তাদের ছেলে-মেয়েরা কোথায় এবং কিভাবে জীবন যাপন করে?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাষ্ট্রযন্ত্র, আমলা-মন্ত্রী এবং সরকারী চাকরীজীবী আপনাদের বেতন-ভাতা কোত্থেকে আসে? এ সব যোগানদাতাদের কথা চিন্তা করুন। সব কিছুরই শেষ আছে; আমাদের পিঠ ঠেকিয়ে দিবেন না, তখন আমরা বাধ্য হবো আপনাদের কোন কিছু না শুনতে। আপনাদের জন্য আমরা বলির পাঠা হবো কেন? আমরা কাজ করে পেট চালাই, কারো রাজনীতি করে খাই না।

দেশ প্রেমিক প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, আপনারা সজাগ থাকুন, আমাদের কান্নার যদি কোন দাম না থাকে তাহলে প্রয়োজনে আমরা রেমিটেন্স পাঠানো বন্ধ করে দেব।

 

সংবাদকর্মীদের দেশের স্বার্থে নষ্ট রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে কাজ করার আহবান জানান। সমাবেশ থেকে প্রবাসী সকল বাংলাদেশীদের ভোটারাধিকারের দাবিও তোলা হয়।

এমআর/ এআর