ঈদের আগেই অর্থাৎ চলতি মাসের শেষ ভাগে ঘোষিত হতে যাচ্ছে নতুন মুদ্রানীতি। জানা গেছে এবারের নতুন মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগের উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে । একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির হারে লাগাম টানা, টাকার সর্বোত্তম ব্যবহার, কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকেও বিশেষ নজর দেয়া হবে। এর সপক্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে।
একই সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পরামর্শ দেয়া হবে। তবে গতানুগতিক ধারায় এবারও মুদ্রানীতিকে সংকোচনশীল বা সম্প্রসারণমুখী কোনোটিই বলা হবে না। চাহিদা অনুযায়ী টাকার প্রবাহ বাড়ানোর কথা বলা হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে মুদ্রানীতির কৌশল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নেয়া হয়েছে অর্থনীতিবিদ ও গবেষকদের মতামত। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরো সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতিতে যাবে না। বরং এক ধরনের ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করবে, যাতে অর্থের প্রবাহ বাড়লেও তাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়। গত কয়েক বছর ধরেই সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করে আসছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঋণ বা নগদ অর্থের প্রবাহের লাগাম কঠোরভাবে ধরে রেখেছে। কয়েক দফা আমানতের বিপরীতে বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণ বা সিআরআরের হার বাড়িয়ে ব্যাংকিং খাত থেকে তুলে নেয়া হয়েছে বাড়তি টাকা। এতে ঋণ ও বিনিয়োগ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে খুব বেশি মনোযোগ দেয়নি।
অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, অর্থনীতির জন্য এখন টাকার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমুখী মুদ্রানীতিতে চলে গেছে। এখন এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এর মানে হচ্ছে আগামীতে যে মুদ্রানীতি আসছে তাও হবে সংকোচনমুখী। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এর মধ্য থেকেই টাকার উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
জানা গেছে, নতুন মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। এজন্য এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৈনন্দিন ও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে রক্ষিত নগদ জমার হার। পাশাপাশি বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আগামীর পূর্বাভাস মাথায় রেখে মুদ্রানীতির হাতিয়ারগুলোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে মুদ্রানীতি প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, আগামী মুদ্রানীতি প্রণয়নের কাজ অনেকাংশে শেষ হয়েছে। এতে প্রবৃদ্ধি সহায়ক উৎপাদনশীল খাতে অর্থ প্রবাহে শিথিলতা থাকলেও সম্পদের মূল্য যাতে ফুলে-ফেঁপে না ওঠে, সেজন্য সংরক্ষণ নীতি থাকছে। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অনুৎপাদনশীল খাতে ঋণ জোগান নিরুৎসাহিত করার ঘোষণাও থাকবে।এ বিবেচনায় নতুন মুদ্রানীতির ভঙ্গিকে ভারসাম্যপূর্ণ বলা যায় বলে তিনি মনে করছেন।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি বছর দুই দফায় আগাম মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। অর্থবছরের শুরুতে প্রথম ছয় মাসের জন্য। এই ছয় মাস শেষ হলে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করে। প্রথম ছয় মাসের অবস্থা দেখে পরবর্তী ছয় মাসের মুদ্রানীতিতে কিছু সংশোধনী আনা হয়।
ঢাকা, ১৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর





