মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা জিএসপি ফিরে পেতে ইপিজেডে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্রম আইন প্রণয়নসহ বাংলাদেশের জন্য আরো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা।
বুধবার সচিবালয়ে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় গঠিত ‘থ্রি প্লাস ফাইভ’ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মজীনা।
মজীনা বলেন, আজকে আবারো আমরা আরেকটি বৈঠকে বসলাম। বৈঠকে বেশ গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে এবং তা সফলও হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, ভবন নিরাপত্তা, শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষাসহ জিএসপি নিয়ে অগ্রগতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার জন্য মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারেক ওবামা গত বছর জুলাইয়ে একটি অ্যাকশন প্ল্যান দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে জেনেভা থেকেও একটি অ্যাকশন প্ল্যান দেওয়া হয়। এগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
প্রসঙ্গক্রমে মজীনা বলেন, ২৪ এপ্রিল একটি ক্রিটিক্যাল ডে। ওইদিন রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তি হবে। সেদিন যা ঘটেছিল সেটা এখনো সবার মনে গেঁথে আছে।
তিনি আরো বলেন, তবে এই কমিটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশ্বের একটি গ্রহণযোগ্য ব্র্যান্ডে পরিণত হবে।
বৈঠকে অ্যাকশন প্লান বাস্তবায়নের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মজীনা বলেন, জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে আরো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, যেগুলো এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় শ্রম আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইপিজেডের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়ন করা দরকার।
এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এতে তিনি জানান, ৩০ মার্চের মধ্যেই সরকার জিএসপি ফিরে পেতে যা যা করার সব বাস্তবায়ন করবে। আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যেই আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারবো। সে অনুযায়ী মে-জুনের মধ্যেই এর শুনানি হয়ে যাবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৬টি শর্তের মধ্যে আমরা ১৩টি বাস্তবায়ন করেছি। বাকি যে তিনটি রয়েছে সেগুলোও চলতি মাসের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে।
এতে বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন, ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত গার্বেন ডি জং, কানাডার রাষ্ট্রদূত হিদার ক্রুডেন, স্পেনের রাষ্ট্রদূত লুইস, ইউরোপিয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উইলিয়াম হানা, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র প্রতিনিধি শ্রিনিবাস রেড্ডি। এছাড়া শ্রম সচিব মিকাইল শিপার, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এই তিন শর্ত হচ্ছে- রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়ন চালু, পোশাক কারখানা ও শ্রমিকদের জন্য ডাটাবেজ তৈরি এবং ২শ কারখানা পরিদর্শন নিয়োগ।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ভবন ধ্বসে সহস্রাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার পরপরই ২৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে দেয়।
[b]ঢাকা, ৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]