রাজনৈতিক অস্থিশীলতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, রাজস্ব আদায় কম এবং রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
গত জানুয়ারি মাসেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাচনী অস্থিতিশীলতার কারণে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। কিন্ত বর্তমান পরিস্থিতিতে সে অবস্থান থেকে সরে এসে আরও কম প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে সর্বোচ্চ ঋণ দাতা এ সংস্থাটি।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন তুলে ধরে এমন তথ্য জানান বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের শুরুতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, পোশাক শিল্পে ভাবমূর্তি সংকট, গ্যাস ও পরিবহন সমস্যা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার দুর্বলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় বাংলাদেশে। এর সঙ্গে আবার চলতি অর্থবছরে যোগ হয়েছে রেমিটেন্স প্রবাহে নিম্নমুখী প্রবণতা।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সেবা খাতে। এ খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৮৬ শতাংশ। এছাড়া শিল্প খাতে ক্ষতি হয়েছে ১১ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ৩ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, বর্তমানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কারণ রাজনৈতিক কারণে ওই সময় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছিল। বাংলাদেশে বিশ্বের প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় এখনও মূল্যস্ফীতি বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সক্ষমতা কমেছে।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ায় তিনি চলতি অর্থবছরের জিডিপি কমিয়ে ৬ দশমিক ৫ হওয়ার কথা বলেন। ঠিক একই কারণে বিশ্বব্যাংকও এই পূর্বাভাস দিল।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে জাহিদ হোসেন বলেন, ২০১৩ সাল জুড়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংহিসতার মুখে রপ্তানি খাত থেকে শুরু করে ব্যক্তি খাত, জনশক্তি রপ্তানি, রেমিট্যান্স প্রবাহ, রাজস্ব আদায় অনেকটাই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আর এসব কারণে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হতে পারবে না।
“বিদ্যুৎ ও রপ্তানি খাতে কিছুটা উন্নতি বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু বাকি সবগুলো সূচকই নিম্নমুখী। তাই চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত বছরের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”
তিনি জানান, সংশোধিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ ধরা হলেও আমরা মনে করছি চলতি অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও সম্ভব নয়। গত বছরের অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাংলাদেশকে বেশকিছু সময় ধরে অপেক্ষা করতে হবে। আর ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার পর অর্থনৈতিক চাকা সচল হতেও কিছুটা সময় লাগবে।
এদিকে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা থেকে কমে গিয়ে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
এর প্রেক্ষিতে সংস্থাটি বলছে, ছয় বছরের মধ্যে চলতি অর্থবছরেই বাংলাদেশ সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি অর্জনের অভিজ্ঞতা লাভ করবে। সংস্থাটির হিসাবে অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের জিডিপি কমে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। যদিও বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এডিবির এই প্রাক্কলন সংস্থাটির আগের পূর্বাভাসের তুলনায়ও কম।
বাংলাদেশসহ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও) ২০১৪’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন ঊর্ধ্বমুখী। গত পাঁচ বছরে এটা ছয়ের ঘরের মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে বাংলাদেশকে ৮ শতাংশ জিডিপি অর্জন ও ধরে রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, গত অর্থবছর অর্থাৎ ২০১২-১৩ সালে বাংলাদেশে ৬ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি অর্জিত হয়েছিল। এর আগের বছরগুলোতে দেখা যায়, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৬ দশমিক ১ শতাংশ, ২০১০-১১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ।
[b]ঢাকা, ৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস: জিডিপি কমবে ৫.৪ শতাংশ
রাজনৈতিক অস্থিশীলতা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, রাজস্ব আদায় কম এবং রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ায় চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৪ শতাংশে। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।





