ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেল সপ্তাহে বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দরে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। পাশাপাশি বাজারে অধিকাংশ শেয়ারের দরও কমেছে। এতে গেল সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে কমেছে। সূচকের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে লেনদেনও। দেশের অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দেখা গেছে একই অবস্থা।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক কমে প্রায় ৩৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে সার্বিক সূচক কমেছে ১০৩ পয়েন্ট।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, মূলত ক্রেতা সংকটে উভয় শেয়ারবাজারে গেল সপ্তাহে শেয়ারের দরপতন হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসেবে বিবেচিত ব্যাংকগুলো নিষ্ক্রিয় থাকায় ক্রেতা সংকট তীব্র হয়।
এতে শেয়ার কেনাবেচাও আশঙ্কাজনক হারে কমে।
এদিকে শেয়ারবাজারে লেনদেন পরিস্থিতিতে বর্তমানে ব্যাংক, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্যক্তিশ্রেণীর বড় বিনিয়োগকারীদের অধিকাংশই নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।
টানা দরপতনে ভীত সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও সাইডলাইনে চলে গেছেন। এ অবস্থায় শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আর কেনাবেচা কমে যাওয়ায় স্টক এক্সচেঞ্জকেও লোকসান গুনতে হবে।
প্রয়োজনীয় খরচ সংকুলান করতে যে পরিমাণ লেনদেনের প্রয়োজন, বর্তমানে তার অর্ধেক কেনাবেচা হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ না বাড়লেও বাজার পরিস্থিতির শিগগিরই উন্নতির তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইএক্স সূচক কমে ১৪ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট, এদিন লেনদেন হয় ২২৯ কোটি টাকার। পরের কার্যদিবসে সূচক কমে ৩৮ দশমিক ২৪ পয়েন্ট, এদিন লেনদেন কমে দাঁড়ায় ২১৭ কোটি টাকায়। মঙ্গলবার ডিএসইতে সবচেয়ে কম লেনদেন হয়।
এদিন সূচক কমে দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। টানা পতনের পর বুধবার সূচক কিছুটা বাড়ে। এদিন সূচক বাড়ে ৪৭ দশমিক ১৪ পয়েন্ট, লেনদেন হয় ২৭১ কোটি টাকার; যা ছিল গেল সপ্তাহের একদিনে সর্বোচ্চ লেনদেন। শেষ কার্যদিবসে সূচক আবারো পতন হয়। এদিন সূচক কমে ২৬ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট ও লেনদেন হয় ২৫৮ কোটি টাকার।
এদিকে গেল সপ্তাহে অধিকাংশ বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারদর ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা। সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনি কোম্পানি গ্রামীণফোনের শেয়ারদর কমে ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
এছাড়া স্কয়ার ফার্মার শেয়ারদর কমে ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তবে রেনাটা, ইসলামী ব্যাংক, ম্যারিকো, তিতাস গ্যাসের শেয়ারের দরে ছিল নিম্নমুখী প্রবণতা।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে মোট ৩০৩টি কোম্পানির ২৯ কোটি ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৬৯৭টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়; যার বাজারদর ছিল ১১৭৩ কোটি ২৪১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। অন্যদিকে দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ২৩৪ কোটি টাকায়। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর কমেছে ১৯২টির, বেড়েছে ৮৭টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২৪টির।
ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ৩২ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩৮৪ পয়েন্টে। নির্বাচিত সূচক ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৪ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৫৮৯ দশমিক ৬ পয়েন্টে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক ১১ দশমিক ৯২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭২ দশমিক ৯২ পয়েন্টে।
সিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৪৫ কোম্পানির মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪৮টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ৯৮ কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৩টির, কমেছে ১৫০টির ও অপরিবর্তিত ছিল ২২টির।
সিএসইর সার্বিক সূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে ১০৩ দশমিক ৩১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩৫৫৩ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক সিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের চেয়ে ৮২ দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১১১২২ দশমিক ১৫ পয়েন্টে।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলো হলো-লাফার্জ সুরমা, স্কায়ার ফার্মা, হা-ওয়েল টেক্সটাইলস, গ্রামীণফোন, মতিন স্পিনিং, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, ইস্টার্ন হাউজিং, ওরিয়ন ফার্মা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও গোল্ডেন সন।
ডিএসইর দরবৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলো হলো-অ্যাম্বি ফার্মা, মেঘনা সিমেন্ট, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, বিএসআরএম স্টিলস, এস আলম কোল্ড রোল্ড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, বারাকাতউল্লাহ ইলেক্ট্রো, আল-হাজ টেক্সটাইল ও জিপিএইচ ইস্পাত।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি দর হ্রাস পাওয়া কোম্পানিগুলো হল- গোল্ডেন সন, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং, এপেক্স ফুটওয়্যার, জনতা ইন্স্যুরেন্স, ইন টেক অনলাইন, স্কয়ার টেক্সটাইল, সামিট পাওয়ার, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স ও পিপলস লিজিং।
[b]ঢাকা, ২৪ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
নিম্নমুখী প্রবণতায় দেশের পুঁজিবাজার
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গেল সপ্তাহে বড় মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের দরে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। পাশাপাশি বাজারে অধিকাংশ শেয়ারের দরও কমেছে। এতে গেল সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক আগের সপ্তাহের চেয়ে কমেছে।





