ব্যাংকিং খাতের তারল্য (নগদ টাকা) সঙ্কট চলছে। এ সময়ে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া শুরু করেছে। গত অর্থবছরের শেষ সময়ে এ এ প্রবণতা দেখা যায়। চলতি অর্থবছরেও সে ধারা অব্যাহত আছে। সর্বশেষ হিসাবে, চলতি মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিট ৫ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের চেয়ে পরিশোধ করেছে বেশি। গত অর্থবছরের শেষ দুই মাসেও গড়ে দৈনিক প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নেয় সরকার। সরকারের ঋণগ্রহণ সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত অর্থবছরের শেষদিন ৩০ জুনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের ঋণস্থিতি ছিল ৬৬ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। ১২ জুলাই তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭২ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। অর্থাত্ ১০ দিনে সরকার পাঁচ হাজার ৮১৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

এদিকে ব্যয় নির্বাহের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সরকার ঋণ নিলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জুন শেষে সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল ২৩ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা। অর্থাত্ অর্থবছরে শুরুর এ কয়দিনেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করলেও সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের কাছে সরকারের ঋণ স্থিতি ৯০ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯২ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। এই কয়দিনে সরকারের ব্যাংকঋণ বেড়েছে এক হাজার ৮১৮ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা বলছেন, বেসরকারি খাতের ঋণের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে তারল্য সংকটে পড়েছে বেশিরভাগ ব্যাংক। এ সংকটের কারণে সুদহার হু হু করে বাড়তে থাকে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়তে থাকা সুদহারে লাগাম টানেন ব্যাংকের মালিকরা। চলতি মাসের শুরু থেকে আমানতে সর্বোচ্চ ৬ এবং ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ কার্যকরের ঘোষণা হয়েছে।

সুদহার কমালে ঋণের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়ে তারল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে বলে তাদের ধারণা। এর মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে। এই সময়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ব্যাংকগুলোর ফান্ড ম্যানেজমেন্টের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অবশ্য অর্থমন্ত্রণালয়ের সংশি­ষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অর্থ ছাড় করতে সময় লাগে, দৈনন্দিন কাজে অর্থের প্রয়োজন হয়; কিন্তু শুরুতেই আয় হয় না। তাই সবসময় অর্থবছরের শুরুর দিকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়ে। বিভিন্ন প্রকল্প ও বরাদ্দের অর্থ পাওয়ার পর সেখান থেকে প্রয়োজন মেটানো ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা হয়, যার ফলে শুরুতে বাড়লেও পরবর্তী সময়ে তা কমে যায়। তারা জানান, মূলত নির্বাচনের বছরে পদ্মা সেতু, এলএনজি টার্মিনাল, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অগ্রগতির ফলে সরকারের প্রচুর নগদ অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।

গত অর্থবছরে সরকারের ঋণগ্রহণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বেশিরভাগ সময়ে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ  নেওয়ার তুলনায় পরিশোধ করছিল বেশি। মূলত সঞ্চয়পত্র থেকে ব্যাপক আয় বাড়ায় ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নিতে হয়নি সরকারকে।

গত অর্থবছরের মে পর্যন্ত হিসাবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের নিট আয় ৪৬ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা হলেও চলতি বছরের বাজেটে এই বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। সূত্র: ইত্তেফাক।

এসএম