শেয়ারবাজারে বর্তমানে ৩৪৮টি কোম্পানি (মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ) তালিকাভুক্ত রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে কম শেয়ার দরে অবস্থান করছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। বাজারে আসার মাত্র ৪ বছরের মাথায় ২০১৪ সালে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের শেয়ার এখন সবার তলানিতে। মঙ্গলবার লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর দাড়িঁয়েছে ৩ টাকায়।

বন্ধ হওয়ার পরে আরও ৪ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু হয়নি এবং তার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরে এসে কোম্পানিটির পক্ষে শেয়ারহোল্ডারদের কোন বছর নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি। যে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে আসার পরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) কোন বছরেই ১ টাকা থেকে ২ টাকায় যেতে পারেনি।

১০০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০১০ সালে আরো ১০০ কোটি টাকা শেয়ারবাজার থেকে সংগ্রহ করে।

এছাড়া ২০১১ সালে রাইট শেয়ার ও ২০১০ সালে ৫ শতাংশ, ২০১১ সালে ১০ শতাংশ, ২০১২ সালে ১৫ শতাংশ, ২০১৩ সালে ১২ শতাংশ, ২০১৪ সালে ১০ শতাংশ ও ২০১৫ সালে ১০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দিয়ে কোম্পানিটি মূলধন বাড়ায়।

যে কোম্পানির বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন দাড়িঁয়েছে ৮২৮ কোটি টাকায়। এরমধ্যে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের মালিকানা ৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার। বাকি ৭৯৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার মালিকানা প্রাতিষ্ঠানিক, বৈদেশিক ও সাধারন বিনিয়োগকারীদের।

দেখা গেছে, ২০১০ সালে আইপিওতে আসার পরে কোম্পানিটির উদ্যোক্তা/পরিচালকদের কাছে ৫০ শতাংশ ও অন্যান্যদের কাছে ছিল বাকি ৫০ শতাংশ। কিন্তু কোম্পানির শোচণীয় সময়ে আসার আগেই উদ্যোক্তা/পরিচালকেরা তাদের শেয়ার ৫০ শতাংশের মধ্যে ৪৫.৮৪ শতাংশ বিক্রয় করে দিয়েছে। এখন তাদের হাতে আছে মাত্র ৪.১৬ শতাংশ।

২০১০ সালে শেয়ারবাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোম্পানিটি উল্লেখ করার মতো কোন পারফরমেন্স করতে পারেনি। যে কোম্পানিটিতে শেয়ারবাজারে আসার পর থেকেই সমস্যা লেগে আছে।

বর্তমানে কোম্পানিটির আর্থিক হিসাব প্রকাশও বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১ম প্রান্তিকের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। এরপরে আরও ৪টি প্রান্তিকের আর্থিক হিসাব প্রকাশের নির্ধারিত সময় পর হয়ে গেছে।

এসএম