প্রথম দুই দফায় ঋণ ছাড়ে ভারতের ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশের মধ্য দিয়েই তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় প্রতিবেশী দেশটির কাছ থেকে আরও সাড়ে চারশ কোটি ডলার (৩৬ হাজার কোটি টাকা) ঋণ নিতে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।
এই অর্থ দিয়ে বিদ্যুৎ, রেলপথ, সড়ক, জাহাজ চলাচল, বন্দরসহ অবকাঠামো খাতে ১৭টি অগ্রাধিকার প্রকল্পের বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ।
প্রথম দুটি লাইন অব ক্রেডিটের মত এবারও এই ঋণের জন্য বছরে ১ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে বাংলাদেশকে। ঋণ শোধে পাঁচ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর সময় পাওয়া যাবে।
আজ (বুধবার) অর্থ মন্ত্রণালয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ও বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শফিকুল আযম এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকে (এক্সিম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড রাসকিনহা এই চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে অরুণ জেটলি বলেন, গত সাত বছরে বাংলাদেশ ভালো প্রবৃদ্ধি পেয়েছে। আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে।
“আমরা বাংলাদেশের উন্নয়নে আগেও পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। তারই ধারাবাহিকতায় এই বড় অংকের ঋণচুক্তি।”
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ভালো। একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় তারা বাংলাদেশের পাশে ছিল। আগামীতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে বলে আশা করছি।”
তবে, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় অর্থমন্ত্রী এর আগের দুইবারে অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ভারতের ঢিলেমিতে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
তবে, ভবিষ্যতে চুক্তি অনুযায়ী ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে ভারত ভালো করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী মুহিত।
অপরদিকে, সফররত ভারতের অর্থমন্ত্রী জেটলি আশা করেন, ভবিষ্যতে চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে ভারত সচতন থাকবে।
তবে, ভূমি অধিগ্রহণ (land acquisition) এবং প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ধীরগতির ফলেই ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে ভারতকে অনেক সময় দীর্ঘসূত্রিতার মধ্যে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালে প্রথম লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় বাংলাদেশকে একশ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার চুক্তি হয় ভারতের সঙ্গে। তবে, এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫০ কোটি ডলারের ঋণ ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ওই ঋণের আওতায় ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং এরই মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।
আর ২০১৬ সালে দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় ভারত থেকে দুইশ কোটি ডলারের ঋণ পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। এই ঋণের আওতায় ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হওয়ার কথা। তবে, এ যাবত ভারত দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের আওতাধীন দুইশো ডলারের মধ্যে কতটুকু ঋণ প্রদান করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, চলতি বছর এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশের জন্য এই সাড়ে চারশো কোটি ডলার ঋণের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় অর্থমন্ত্রীর এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হল।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ১১৩৮ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই হিসেবে ভারতের এই তৃতীয় এলওসি হচ্ছে বাংলাদেশের করা দ্বিতীয় বৃহত্তম ঋণ চুক্তি।
এর আগে সকাল ১০টায় সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। সকাল ৭টায় তিনি ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে যান।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে ঢাকা পৌঁছান ভারতের অর্থমন্ত্রী। বিকাল ৩টায় ভারতের একটি বিশেষ বিমানে ঢাকার কুর্মিটোলায় বিমানবাহিনীর ঘাঁটি বঙ্গবন্ধুতে পৌঁছান তিনি। তাকে স্বাগত জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
পরে বিমানবন্দর থেকে অরুণ জেটলিকে সোনারগাঁও হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করছেন।
জেড/কেবি





