এটিএম কার্ড জালিয়াতির প্রধান হোতা চিহ্নিত হয়েছে। আছেন গোয়েন্দা পুলিশের কব্জায়। আটক হওয়ার পর সবিস্তারে সব খোলাসাও করেছেন তিনি। যিনি একজন বিদেশী নাগরিক। নাম তার থমাস।

নকল নাম যুক্ত হয়ে এখন তার পুরো নাম থমাস পিটার। তার জবানিতেই বেরিয়ে এসেছে বিস্ময়কর সব জালিয়াতির ঘটনা। তিনি শুধু এখানে নয়, এর আগে নিজের দেশ পোল্যান্ডেও একই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

একে একে রাশিয়া, ইউক্রেন, রোমানিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশে এই বিষবৃক্ষ রোপণ করেন। এমনকি যেখানে এই অপকর্মের আখড়া গেড়েছেন সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্থানীয় নাগরিককে বিয়েও করেন।

একইভাবে ঢাকায় থেকে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশী এক হোটেল কর্মচারীকে বিয়ে করে বহাল-তবিয়তে সংসার পেতে বসেন।

গেল সপ্তাহে তিনি পুত্র সন্তানের বাবাও হয়েছেন। এভাবে বেরিয়ে এসেছে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত গডফাদার পিটারসহ আন্তর্জাতিক এক বিরাট চক্রের আদ্যোপ্রান্ত।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নবগঠিত কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবির চৌকস টিমের দ্রুততম সময়ের এই অপারেশনে গুলশান থেকে আটক হন পোল্যান্ডের নাগরিক থমাস পিটার।

তবে এই অপারেশনের খবর পাওয়া মাত্রই তার নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা অন্যতম আরও তিনজন বিদেশী নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

আটককৃত পিটার সবিস্তারে মুখ খুলতে কিছুটা সময় নেয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরবর্তী অপারেশনও বিলম্ব হয়ে যায়।

তবে পিটারের কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তাতে দেশী ও বিদেশী অনেকেই এখন গোয়েন্দা জালে আটকা পড়েছেন।

চাঞ্চল্যকর এই মামলার সার্বিক তদন্তের প্রয়োজনে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হতে পারে।

সূত্র জানায়, আজ পিটারকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ডিএমপির পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপনও করা হতে পারে।

প্রসঙ্গত, এ মাসের প্রথম সপ্তাহে ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বেসরকারি তিনটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে অন্তত ২০ লাখ টাকা তুলে নেয় চক্রটি।

টাকা হাতিয়ে নিতে তারা স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গ্রাহকদের গোপন তথ্য চুরি করে।

এরপর ঘটনার শিকার ২১ জন সাধারণ গ্রাহক ছাড়াও সংশ্লিষ্ট ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড (ইউসিবিএল), সিটি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে টনক নড়ে।

এ সেক্টরের কড়া নিরাপত্তা সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকও দ্রুত এগিয়ে আসে। মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ওএফ