জনতা এবং রূপালী ব্যাংকে ৮২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে অডিট রিপোর্টে উল্লেখ করেছে মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক দফতর। ঋণ বিতরণ এবং আদায়ে গাফিলতির কারনে এ ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১০ ও ২০১১ সালে এ দুটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের ১৫টি অডিট আপত্তিতে ওই পরিমাণ ক্ষতি চিহ্নিত হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২৩তম বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য আ. ফ. ম. রুহুল হক, গোলাম দস্তগীর গাজী, মো: শামসুল হক টুকু এবং মো: রুস্তম আলী ফরাজী অংশগ্রহণ করেন।

সরকারি ব্যাংক দুটির এই আর্থিক অব্যবস্থাপনায় কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এর সঙ্গে যারা বা যে সব কর্মকর্তা জড়িত এবং যে সব কর্মকর্তা কাজে গাফিলতি করেছেন তাদের সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ করেছে কমিটি।

বৈঠকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনস্থ জনতা এবং রুপালী ব্যাংক লিমিটেডের ঋণ পুন:তফসিল ও সুদ মওকুফ কার্যক্রমের ওপর বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অডিট রিপোর্ট ২০১০-২০১১ এর সংশ্লিষ্ট অডিট আপত্তি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

১৫টি অডিট আপত্তি বিষয়ে আলোচনা করে অব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত হয় কিমিটি। এতে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে প্রায় ৮২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

বৈঠকে জানানো হয়, জনতা ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্য কর্পোরেট শাখা, ঢাকার গ্রাহক মো: আব্দুল হাইয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের সামর্থ্য বিবেচনা না করে চারটি প্রকল্পে ঋণ মঞ্জুর, বিপুল অংকের বন্ধকী পণ্য বিতরণের অভাবে নষ্টসহ বিভিন্ন অনিয়মে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে।

বৈঠকে আরো জানানো হয় যে, রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক মেসার্স মাদার টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডকে সঠিক পন্থা অবলম্বন না করে ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ, দায়ের তুলনায় জামানত অপ্রতুল, বারবার পুন: তফসিলিকরণ সত্ত্বেও আদায় না হওয়ায় ব্যাংকের প্রায় ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের গ্রাহক মেসার্স হারভেস্ট লিমিটেডের ওপর যথাযথ মনিটরিং না থাকায় ঋণপত্রের সীমা লংঘন, ফোর্সড লোন শর্তানুযায়ী আদায় না হওয়া এবং ক্রমাগত দায় বৃদ্ধিতে প্রায় ১৩৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া মেসার্স লিগ্যাসী ফুটওয়ার লিমিটেডের অপর্যাপ্ত জামানত ও বারবার পুন:তফসিল করেও শর্ত অনুযায়ী ঋণের অর্থ আদায় না হওয়ায় প্রায় ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

কমিটি চলমান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে আপত্তিকৃত অর্থ আদায়ের ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করে। কমিটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অর্থ আদায়ের সুপারিশ করে।

এছাড়া এই ধরণের আপত্তিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা জোরদারের সুপারিশ করা হয়।

এমকে