দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)ও অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গেল সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তোলার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গেল সপ্তাহে ডিএসইতে সূচক কমেছে প্রায় ৮৬ পয়েন্ট। লেনদেনের পরিমানও কমেছে ২১ শতাংশ। এছাড়া অধিকাংশ কোম্পনির দর ও বাজার মূলধন কমেছে। সিএসইতে একই চিত্র দেখা গেছে।
সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষনে দেখা গেছে, ডিএসইতে গেল সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে চার দিবসই ডিএসইএক্স সূচক হারায়। প্রথম কার্যদিবস রোববার ডিএসইএক্স সূচক কমে ২২ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। এদিন ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬৯৫ কোটি টাকা। পরের কার্যদিবস সোমবার ডিএসইতে সূচক কমে ২৪ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট। এদিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৬০৩ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার সূচক কমে ৩৪ দশমিক ৫১ পয়েন্ট। লেনদেনও কমে দাঁড়ায় ৪৯১ কোটি টাকায়, যা ছিল গেল সপ্তাহের সর্বনিম্ন লেনদেন। পরের কার্যদিবসের সূচক ছিল স্থিতিশীল অবস্থায়। এদিন সূচকে যোগ মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয় ৫৭২ কোটি টাকা। শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সূচক কমে ৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয় ৫৩৪ কোটি টাকার।
ডিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৯৮টি কোম্পানির মোট ৫৩ কোটি ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৬০৩টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ২ হাজার ৮৯৫ কোটি ৬৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৭৬৮ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা কম। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৭৯ কোটি ১৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৮টির, কমেছে ২৪৪টির ও অপরিবর্তিত ছিল ছয়টির।
ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের চেয়ে ৮৫ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭৫৯ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে। অন্যদিকে ডিএসই-৩০ নির্বাচিত সূচক ১৪ দশমিক ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৯৬ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে।
দেশের অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে গেল সপ্তাহে ২৫৩টি কোম্পানির মোট ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৩৪ হাজার ৮০১টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়, যার বাজারদর ছিল ২৪৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৪৪টির, কমছে ২০৫টি ও অপরিবর্তিত ছিল ৪টির।
সিএসই সার্বিক সূচক গেল সপ্তাহের তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৬৭ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১৪৭৫৯ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে। অন্যদিকে নির্বাচিত সূচক সিএসই-৩০ গেল সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৩৬ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১২৫২০ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে।
দেশের দুই শেয়ারবাজারে গেল সপ্তাহে চলতি বছরের শুরু থেকেই শেয়ারবাজারে টানা উত্থান দেখা যায়। পাশাপাশি বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে বাড়তে থাকে বাজারে লেনদেন। এতে সূচকও ক্রমান্বয়ে ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আর বেশ কয়েক দিনের উত্থানের পর গেল সপ্তাহে শেয়ারবাজারের অধিকাংশ কার্যদিবসেই সংশোধন লক্ষ করা যায়।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাজারে চাঙ্গাভাব আসে। ডিসেম্বরে হিসাব বছর শেষ হওয়া ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক দেখা যায়। একই কারণে ওষুধসহ অন্য খাতগুলোর শেয়ার চাহিদাও বাড়ে। অনেক বিনিয়োগকারী প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফাও করেছেন। প্রায় মাসব্যাপী টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল মূল্যসূচকে। ফলে এর পর এসব শেয়ার থেকে মুনাফা তুলে নেয়ার চেষ্টাও করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
[b]ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম) // এমআর[/b]
অর্থনীতি
মুনাফা তোলার প্রবণতা বেড়েছে পুঁজিবাজারে
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)ও অন্য বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)গেল সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তোলার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গেল সপ্তাহে ডিএসইতে সূচক কমেছে প্রায় ৮৬ পয়েন্ট। লেনদেনের পরিমানও কমেছে ২১ শতাংশ।





