কোরবানির ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। এ ঈদের অনুসঙ্গ হিসেবে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে মাংসের মসলার। ধনী গরীব সব শ্রেণির মানুষই এসময় কম-বেশি মসলা কেনে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই চট্টগ্রামের মসলার বাজারকে রীতিমতো অস্থির করে তুলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। গত ৩ দিনের ব্যবধানে চট্টগ্রামের মসলার বাজারে প্রতিটি মসলার উপকরণে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত।

চট্টগ্রামের পাইকারী ভোগ্যপণ্যের প্রধান বাজার খাতুনগঞ্জ। এ বাজারের ব্যবসায়ীরাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মসলা আমদানি করে সারাদেশের চাহিদা পূরণ করে। এখানকার পাইকারী বাজারে মসলার মুল্যবৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করেছেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মসলার মধ্যে জিরার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কয়েকদিনে প্রতি কেজি জিরা ও এলাচের দাম ২০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, কোরবানির ঈদ সামনে বাড়তি চাহিদার কারণে অনেকটা ইচ্ছেকৃতভাবেই মসলার দাম বাড়ানো হয়েছে।

খাতুনগঞ্জের মসলা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম জানান, গত দেড় মাস ধরেই মসলার দাম বাড়তির দিকে। বর্তমানে দারুচিনি প্রতিকেজি ২২৫ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ১৯০ টাকা, জয়ত্রী ১ হাজার ৪৫০ টাকা, জয়ফল ৬৫০ টাকা, কালো গোলমরিচ ১ হাজার ৮০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে কালো গোলমরিচের দাম ১৪০ ও সাদা গোলমরিচে দাম ৮০ টাকা বেড়ে গেছে। প্রতিকেজি মিষ্টি জিরা ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৩৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩৬০ টাকায়। এদিকে, প্রতিকেজি ধনিয়া ২৩০ টাকা, ভারতীয় মরিচ ১১৫ ও দেশি মরিচ ১৪৫ টাকা, ভারতীয় হলুদ ৯৩ থেকে ৯৪ এবং দেশি হলুদ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে ধনিয়ার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

অন্যদিকে, গত দুই দিনে চট্টগ্রামের বাজারে পেঁয়াজের দাম অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। আর, কেজিপ্রতি ১০ টাকা করে কমে গেছে আদা ও রসুনের দাম। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন গত সপ্তাহে প্রতি কেজি রসুন ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও শুক্রবারের বাজারে তা প্রতি কেজি ৭৮ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়।
একইভাবে কমেছে আদার দামও। বাজারে দেশী আদার সরবরাহ বেড়ে যাওয়াই দাম কমার কারন বলে জানান, ব্যবসায়ীরা।

জেআই,