বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্তমানে এই বন্দরে ২৫ টন ধারণ ক্ষমতার ফর্কলিফট রয়েছে একটি এবং পাঁচ টনের ফর্কলিফট রয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে তিনটি দীর্ঘদিন ধরে অচল। বর্তমানে ২৫ টনের ফর্কলিফটিও অচল রয়েছে।

এছাড়া ক্রেন আছে ৪০ টন, ৩৫ টন ও ১৯ টনের একটি করে এবং ১০ টনের আছে দুইটি।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, বন্দরের গুদামে জায়গার অভাবে ওখান থেকে পণ্য বের করার পর নতুন পণ্য ঢোকানো হচ্ছে। খালাসের অভাবে পণ্যবোঝাই ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে দাঁড়িয়ে থাকছে দিনের পর দিন। ট্রাক থেকে পণ্য নামানোর অনুমতি মিললেও ক্রেন কিম্বা ফর্কলিফট মিলছে না। ফলে জায়গা ও ক্রেন সংকটে বিপাকে পড়েছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) নিতাই চন্দ্র সেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বারবার তাগাদা দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাতে সাড়া দিচ্ছে না।

“বিষয়টি জানিয়ে গত ২৫ মে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের (বাস্থবক) কাছে একটি চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে।”

বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, এই বন্দর দিয়ে দেশের সিংহভাগ শিল্প-কারখানা, গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রি ও বিভিন্ন প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়। ক্রেন ও ফর্কলিফট ছাড়া এ জাতীয় পণ্য বন্দরে লোড আনলোড করা সম্ভব না।

২০০২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বেনাপোল বন্দরকে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। ওই সময় অতি পুরাতন ক্রেন ও ফর্কলিফট মংলা বন্দর থেকে ভাড়া করে এনে এখানে কাজ চালানো হতো বলে তিনি জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ২০১০ সালের ২১ মার্চ বেনাপোল স্থলবন্দরের পণ্য উঠানামার জন্য বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঢাকার মহাখালীর মেসার্স এসআইএস (সীস) লজিস্টিক্যাল সিস্টেমের (জেভি) পাঁচ বছর মেয়াদি চুক্তি হয়। ওই বছরের ১ অগাস্ট তারা বেনাপোল স্থলবন্দরে বেসরকারি কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পান।

তিনি বলেন, তারা বন্দরে ১৬টি ফর্কলিফট ও ৫টি ক্রেন দিয়ে মালামাল উঠানামার কাজ করার পর ওই বছরের ১০ নভেম্বর আরও ৬টি নতুন ফর্কলিফট নিয়ে আসেন। কয়েকদিন কাজ করার পর এসব ফর্কলিফট ও ক্রেন অকেজো হওয়া শুরু করে।

“চুক্তি অনুযায়ী পাঁচটি ক্রেন দিয়ে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ করার কথা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তিনটি ক্রেন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও কোনো লাভ হয়নি।”

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বেনাপোল প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইঞ্জিনের বিষয় তো, মাঝেমধ্যে সমস্যা হতে পারে। আমরা সব ক্রেন ঠিক করে দিচ্ছি।”

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ৩৬ হাজার টন ধারণক্ষমতার বন্দরে প্রতিদিন ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টন পণ্য উঠানামা করা হয়। এসব পণ্য উঠানামার কাজে ন্যূনতম সাতটি ক্রেন প্রয়োজন। সেখানে দুটি ক্রেন সচল রয়েছে। প্রতিদিন অন্তত ২০০টি ট্রাক পণ্য উঠা-নামানোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকে।

বন্দরের জায়গা ও ক্রেন সমস্যার সমাধান না হলে বেনাপোল বন্দর থেকে ব্যবসায়ীরা অন্য বন্দরে চলে যাবেন বলে তিনি মনে করেন।

বন্দরের ১১ নম্বর গুদামের ইনচার্জ ফারুক হাসান বলেন, পণ্য উঠানামার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি ক্রেনের মধ্যে দুটি সচল রয়েছে। ওই দুটি দিয়েই কোনোরকমে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ক্রেন সংকটের কারণে গভীর রাত পর্যন্তও কাজ করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরা ক্রেন পেলেও গুদামে আর জায়গা থাকছে না। তখন বসে থাকতে হচ্ছে ভেতরের পণ্য বের না হওয়া পর্যন্ত।

মালামাল রাখার জায়গা না থাকায় প্রতিদিন কয়েকশ ট্রাক মালামাল নিয়ে বন্দরের পাশে সড়কের বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে থাকছে ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের কথা স্বীকার করে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) আবদুল জলিল বলেন, “আধুনিক দুইটি শেড নির্মাণ করার জন্য ১২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে। শেডগুলো তৈরি হলে জায়গার কোনো সংকট থাকবে না।”

এসএ/টাইম