তদন্তের স্বার্থে বাংলাদেশ থেকে আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় কোনো তথ্য দেয়নি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
ব্যাংকের কারা কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করতেই এফবিআই এসব আলামত সংগ্রহ করে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় এ ব্যাপারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহেল বাকি বলেন, যেকোনো দেশে বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে এফবিআই তদন্ত করে। এজন্য তাদের কাছে কোনো আবেদন করতে হয় না। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাপারেও তারা স্বেচ্ছায় এসে তদন্ত করেছে। তবে এরপর তারা আর কোনো যোগাযোগ করেনি।
এফবিআই ছাড়াও পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে তাদের জন্য তদন্ত থেমে নেই। অপরাধী যারাই হোক তাদের গ্রেপ্তার করে আইনে সোপর্দ করা হবে।
হ্যাকাররা রিজার্ভ লুটের পর সিআইডিসহ সরকারের একাধিক সংস্থা তদন্তে নামে। তারই ধারাবাহিকতায় উৎস খুঁজে পেতে এফবিআইয়ের কাছে আইটি ফরেনসিক সহযোগিতা চায় সিআইডি।
চুরি যাওয়া টাকা কাদের কাছে গেছে তা বের করতেও সাহায্য চাওয়া হয়। এরপর এফবিআইয়ের এক কর্মকর্তা সিআইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো অর্থ চুরির ঘটনা ঠেকাতে সিআইডি ও এফবিআই এক সঙ্গে কাজ করার বিষয়েও সম্মত হয়।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে এফবিআই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আলামত সংগ্রহ করছে। এফবিআই এজেন্টরা অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পেছনে কারা ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে।
এদিকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে হ্যাকাররা। এজন্য তারা বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারকে বেছে নিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ থাকলেও শুক্রবার দিনটি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কার্যদিবস ছিল।
ওই ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ ছাড় করতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে ভুয়া নির্দেশ পাঠায় হ্যাকাররা। পর পর কয়েকটি সন্দেহজনক পরিশোধ-আদেশ (পেমেন্ট অর্ডার) পাওয়ায় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। তারা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাদের জানানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ছুটির দিন হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এমআইএস





